কলকাতা, ১৮ই ডিসেম্বর ২০২৫: গত ১৬ ডিসেম্বর বাংলার SIR এর ড্রাফট লিস্ট প্রকাশিত হয়েছে। ইতিমধ্যে ৫৮ লাখ মানুষের নাম বাদ পড়েছে SIR এর খসড়া তালিকায়। ৫৮ লাখের মধ্যে ২৪ লাখ মানুষ মৃত, তাই বাদ পড়েছে। স্থানান্ততিত, খুঁজে পাওয়া যায়নি এবং ইতিমধ্যে অন্য জায়গায় ভোটার লিস্টে আছে- এই তিন ক্যাটেগোরিতে বাদ পড়েছে প্রায় ৩৪ লাখ মানুষ। যারা দেড় কোটি রোহিঙ্গা বা বাংলাদেশী মুসলমান খুঁজছিলেন, তারা হতাশ। মিডিয়ার সাংবাদিক সহ অনেক রাজনীতিবিদ বা সাধারণ মানুষ অনেকেই বুঝতে পারছেন না যে কলকাতা, শহরাঞ্চল ও শিল্পাঞ্চলগুলোয় লাখ লাখ মানুষের নাম বাদ পড়া মানুষগুলো কারা? এরা মূলত হিন্দি ও উর্দু ভাষী। এরা এতদিন দু রাজ্যের ভোটার ছিল। বাংলায় লাখ লাখ এমন ক্রিমিনাল আছে, যাদের দু রাজ্যে ভোট৷ বিহার/ ইউপি/ ঝাড়খন্ড/ রাজস্থান/ গুজরাট / উড়িষ্যা ও বাংলা দু জায়গাতেই ভোট দিত এরা। বাংলা পক্ষ দীর্ঘ দিন দু রাজ্যে ভোটার কার্ড থাকা ক্রিমিনালদের বিরুদ্ধে লড়ছে।
SIR শুরুর সাথে সাথে ময়দানে নামে বাংলা পক্ষ। নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে CEO, West Bengal এর সাথে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করা হয় এবং স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়৷ বাংলার প্রতিটা জেলা শাসকের অফিসে আন্দোলন ও স্মারকলিপি জমা দেওয়া চলে৷ স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয় SDO দেরও। এছাড়া বাংলা জুড়ে মিটিং, মিছিল ও পথসভা সংগঠিত হয়৷
দু রাজ্যে ভোটার কার্ড থাকা ক্রিমিনালদের বাংলার SIR থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জোরালো হয়। ড্রাফট লিস্ট প্রকাশিত হওয়ার পর দেখা যাচ্ছে যে প্রায় ২০-২৫ লাখ ভোটার, যাদের দু রাজ্যে ভোটার কার্ড তারা বাদ পড়েছে। এদের মুখের ভাষা মূলত হিন্দি ও উর্দু। সেজন্যই চৌরঙ্গী ও জোড়াসাঁকোর মতো বিধানসভায় সবচেয়ে বেশি নাম বাদ পড়েছে৷ প্রচুর নাম বাদ পড়েছে কলকাতা বন্দরেও৷ একই চিত্র রাজ্যের সমস্ত শিল্পাঞ্চলে। শিলিগুড়ি, খড়গপুর ও আসানসোলে একই জিনিস দেখা গেছে। বাংলা পক্ষ ছাড়া কেউ এই দু রাজ্যে ভোটার কার্ড ইস্যুতে লড়াই করেনি।
ওদের কয়েকলাখ মানুষ ভয় পেয়ে বাংলায় SIR ফর্ম জমা করেনি। কিন্তু কয়েকলাখ হিন্দি- উর্দু ভাষী এখনও দু রাজ্যে নাম তুলেছে। তারা বে- আইনি কাজ করেছে। এদের বাংলা পক্ষ হুঁশিয়ারি দিচ্ছে যাতে ওরা দ্রুত SIR লিস্ট থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেয়। আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি জানাচ্ছি যাতে দু রাজ্যে ভোটার কার্ড থাকা ১০০% ক্রিমিনালদের নাম বাংলার লিস্ট থেকে বাতিল করে।
এছাড়াও খসড়া তালিকা প্রকাশের পর দেখা যাচ্ছে যে উদ্বাস্তু হিন্দু বাঙালি, মূলত মতুয়ারা বিপদে। কয়েক লাখ উদ্বাস্তু বাঙালির নাম বাদ গেছে ভোটার লিস্ট থেকে। ২০১৯ থেকে বিজেপি এই মানুষগুলোকে CAA র মাধ্যমে নাগরিকত্ব দেওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে ভোট নিয়েছিল। এখনও মতুয়া সহ উদ্বাস্তুরা নাগরিকত্ব পায়নি, কিন্তু ভোটার লিস্ট থেকে নাম কাটলো বিজেপি। দেশভাগের বলি হওয়া উদ্বাস্তু হিন্দু বাঙালির ভোটাধিকার কেড়ে নিল বিজেপি। উদ্বাস্তু হিন্দু বাঙালির নি:শর্ত ও অবিলম্ব নাগরিকত্ব এবং ভোটাধিকারের দাবিতে বাংলা পক্ষ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
এছাড়াও বাংলার দার্জিলিং ও কালীম্পং এ এমন হাজার হাজার মানুষ আছে যারা নেপালের নাগরিক। ইন্দো- নেপাল চুক্তি অনুযায়ী কেউ নেপাল থেকে এসে বাংলা তথা ভারতে থাকতে পারে, ঘর-বাড়িও করতে পারে। কিন্তু ভোটার কার্ড করতে পারে না৷ যারা বাংলার ভূমিপুত্র নেপালী, আমরা তাদের পক্ষে। কিন্তু যারা নেপাল থেকে এসে অবৈধ ভাবে বাংলার ভোটার লিস্টে নাম তুলেছে তাদের নাম বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করেছিল। অনেক অবৈধ নেপালীর নাম বাদ গেছে। আরও অনেকে আছে। আবারও বলতে চাই যে আমরা বৈধ নেপালীদের ভাই মনে করি।
দু রাজ্যে যাদের ভোট তাদের নাম সম্পূর্ণ ভাবে বাদ দেওয়ার দাবি এবং হিন্দু উদ্বাস্তু বাঙালির ভোটাধিকারের দাবিতে বাংলা পক্ষর আন্দোলন তীব্রতর হবে।
