WBCS সহ রাজ্য সরকারি চাকরিতে বাংলা ভাষা বাধ্যতামূলক এবং সমস্ত শূন্য পদে দ্রুত ও স্বচ্ছ ভাবে নিয়োগের দাবিতে PSC তে বিক্ষোভ ও ডেপুটেশন বাংলা পক্ষর

Share the News

১৭ ফেব্রুয়ারি, কলকাতাঃ আন্তঃরাষ্ট্রীয় মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ১৭-২১ ফেব্রুয়ারী বাংলা ভাষার অধিকার সপ্তাহ পালন করছে বাংলা পক্ষ। আজ বাংলা পক্ষ পশ্চিমবঙ্গ PSC ভবনে বিক্ষোভ ও ডেপুটেশন কর্মসূচী করল বাংলা পক্ষ।

ভারতের সব রাজ্যে PSC র সব পরীক্ষায় সেই রাজ্যের ভাষা বাধ্যতামূলক৷ যেমন বিহার সিভিল সার্ভিসে ১০০ নম্বরের হিন্দি পেপার, গুজরাট সিভিল সার্ভিসে ১৫০ নম্বরের গুজরাটি, মহারাষ্ট্রে ১০০ নম্বরের মারাঠি, ইউপি ও মধ্যপ্রদেশে ৩০০ নম্বরের হিন্দি, উড়িষ্যায় ২৫০ নম্বরের উড়িয়া, কর্ণাটকে ১৫০ নম্বরের কন্নড় পেপার বাধ্যতামূলক৷ বাংলায় সিভিল সার্ভিস WBCS এ বাংলা বাধ্যতামূলক নেই। বাংলা পক্ষর দীর্ঘ ৬ বছরের লড়াইয়ে ৩০০ নম্বরের বাংলা পেপার বাধ্যতামূলক হয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন দলে থাকা হিন্দি-উর্দু লবি ও বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে বশ্যতা স্বীকার করে বাংলার সরকার। আবারও WBCS এ হিন্দি-উর্দু ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। বাংলা পক্ষ সিভিলে সার্ভিসে হিন্দি- উর্দুর বিরুদ্ধে লড়ছে, বাংলা বাধ্যতামূলক চাই।
দুর্ভাগ্যের বিষয় হল- বাংলায় বাঙালির ভোটে জেতে সরকার, কিন্তু বহিরাগত তোষণ করে।

অন্য দিকে বিভিন্ন রাজ্য সরকারি দপ্তরে নিয়োগ না হওয়ায় বা নিয়োগ প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ায় বাংলার শিক্ষিত যুব সমাজ বিপদে পড়ছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগও উঠেছে।

তাই নিম্নলিখিত দুটি দাবিতে বাংলা পক্ষ আজ বিক্ষোভ ও কর্মসূচী করল৷

১. WBCS সহ সমস্ত রাজ্য সরকারি চাকরির পরীক্ষায় বাংলা ভাষার লিখিত পেপার বাধ্যতামূলক করতে হবে।
২. সমস্ত শূন্য পদে দ্রুত ও স্বচ্ছ ভাবে নিয়োগ করতে হবে।

পিএসসির নব নিযুক্ত চেয়ারম্যান মাননীয় দেবল রায় মহাশয়ের সাথে সাক্ষাৎ করে বাংলা পক্ষর তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলে ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি, শীর্ষ পরিষদ সদস্য অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা জেলার সম্পাদক সৌম্য বেরা।

কৌশিক মাইতি বলেন, “বাংলায় বাঙালির ভোট পেতে হলে WBCS সহ সমস্ত চাকরিতে বাংলা ভাষার লিখিত পেপার বাধ্যতামূলক করতে হবে। সব রাজ্যে যা নিয়ম, বাংলায় অন্যথা হবে কেন? বাংলা কি ধর্মশালা?
বাংলা নিজের মেয়েকে চেয়েছে কারণ, কারণ বাঙালি নিজের ভাষার অধিকার চায়। কারণ বাঙালি নিজের ছেলেমেয়ের চাকরি, কাজ, ব্যবসা চায়। ২০২৬ এর ভোট আসছে। বাঙালির ভোট পেতে হলে বাংলা বাধ্যতামূলক করতেই হবে। বাংলা পক্ষ লড়ছে৷”

অরিন্দম চট্টোপাধ্যায় বলেন, “হিন্দি-উর্দু তোষণের ফলে বিপদে পড়ছে বাংলার ভূমিপুত্ররা। আমাদের ছেলেমেয়েরা অন্য রাজ্যে বাংলায় পরীক্ষা দিতে পারে না৷ ওরা এখানে এসে নিজের ভাষা হিন্দি-উর্দুতে পরীক্ষা দিয়ে চাকরি দখল করছে। ক্ষতি হচ্ছে বাংলার ছেলেমেয়েদের৷ এর বিরুদ্ধে বাংলা পক্ষর সর্বাত্মক আন্দোলন চলবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *