কলকাতা, ১৯শে ফেব্রুয়ারিঃ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রাক্কালে ‘ভাষা অধিকার সপ্তাহ পালন করছে বাংলা পক্ষ। আজ সংগঠনটির পক্ষ থেকে কলকাতা মেট্রোর সদর দপ্তরে বিভিন্ন দাবিতে ডেপুটেশন দেওয়া হয়।
এক প্রতিনিধি দল মেট্রো রেলের অধিকর্তার সাথে দেখা করেন, সেই দলে ছিলেন শীর্ষ পরিষদ সদস্য তথা সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি, শীর্ষ পরিষদ সদস্য অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়, আব্দুল লতিফ, কলকাতা সাংগঠনিক জেলার সম্পাদক সৌম্য বেরা, উত্তর ২৪ পরগণা(গ্রামীন) সাংগঠনিক জেলার সম্পাদক দেবাশীষ মজুমদার ও কলাকাতার দপ্তর সম্পাদক সৌগত মজুমদার। ডেপুটেশনের আগে শতাধিক সদস্য এক বিক্ষোভ কর্মসূচীতে অংশ নেন। মেট্রোর পরিষেবায় বাংলা ভাষা উপেক্ষার কথা, বহিরাগত RPF ও বুকিং ক্লার্কদের একাংশের বাংলা বলতে অস্বীকার করার কথা উঠে আসে বিক্ষোভকারীদের মুখে। সংগঠনের পক্ষ থেকে টিকিট কাউন্টারের কর্মী ও RPF কর্মীদের বাংলা জানা বাধ্যতামূলকের দাবি করা হয়। মেট্রো স্টেশনের প্রতিটি নির্দেশিকায় বাংলা ভাষা রাখার দাবি জানানো হয়। প্রবীণ নাগরিকদের স্বার্থে মেট্রো স্টেশনে শৌচালয় ও কবি সুভাষ মেট্রো স্টেশনের সংস্কার প্রক্রিয়া দ্রুত করার দাবিও জানায় বাংলা পক্ষ।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বাংলা পক্ষর সাধারণ সম্পাদক গর্গ চট্টোপাধ্যায় বলেন ” এই বিশ্বের খুব অল্প কিছু জাতিই আজও তার মাটিতে নিজের মাতৃভাষায় পযিষেবা পায় না, ভারতের বাঙালি এই দুর্ভাগা জাতিগুলির অন্যতম। ২১ শে ফেব্রুয়ারি কোন সাংস্কৃতিক উদযাপন বা সেই বীর ভাষা শহীদদের স্মৃতিতর্পণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হতে পারে না। সারা বিশ্বের নিপীড়িত জাতির মাতৃভাষার অধিকার আদায় করার প্রেরণা হল একুশ। বাংলা পক্ষ সগঠনও সেই লক্ষ্যেই ভাষা অধিকার সপ্তাহ পালন করছে।”
ডেপুটেশনের পর সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি জানান” মেট্রো রেল আধিকারিক দীর্ঘ সময় সদর্থক আলোচনা করেছেন, আমাদের দাবির সাথে তিনি সহমত জানিয়েছেন। বাংলা ভাষার মর্যাদা ও ব্যবহারের বিষয়ে তিনি নিজে সচেতন বলেই জানিয়েছেন। মেট্রোর সংস্কার প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হবে বলেই জানানো হয়েছে। আমরা আশা রাখছি মেট্রো কর্তৃপক্ষ আজকের প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়ন করবে।”
শীর্ষ পরিষদ সদস্য অরিন্দম চট্টোপাধ্যায় ও কলকাতা জেলার সম্পাদক সৌম্য বেরা উভয়ই জানালেন আলোচনা সদর্থক এবার কতটা বাস্তবায়ন হয় সেদিকে সংগঠন খেয়াল রাখবে। মেট্রোর বহিরাগত কর্মীদের দ্বারা বাঙালিকে “বাংলাদেশী” তকমা পেতে আগামীদিনে আর হবে না, বা এই ধরনের জাতি বিদ্বেষী কর্মীদের উপর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব হবে বলেই আশা করা যায়।

