‘ডিলিমিটেশন, অহিন্দি রাজ্যের উপর তলোয়ার’- স্ট্যালিনের চিঠি মমতা সহ সাত মুখ্যমন্ত্রীকে

১৫ মার্চ, কলকাতা: তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন ডিলিমিটেশন বিষয়ে সাতটি অহিন্দি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটিতে(JAC) যোগ দেওয়ার জন্য চিঠি দিয়েছেন। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবত মান, কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন, কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া, অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু, তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি, এমনকি ওড়িশার বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী মোহন চন্দ্র মাঝিকেও আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এম কে স্ট্যালিন আগামি ২২ মার্চ JAC তে যোগ দেওয়ার জন্য।স্ট্যালিন বলেছেন, “এই মুহূর্তটি নেতৃত্ব এবং সহযোগিতার দাবি করে – রাজনৈতিক পার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে বৃহত্তর কল্যাণের জন্য দাঁড়ানো,” তিনি আরও লিখেছেন, “রাজ্যগুলির ন্যায্য সম্পদ সুরক্ষিত করার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উপর গুরুত্বপূর্ণ নীতিগুলিকে প্রভাবিত করার এবং রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে আমাদের অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারগুলিকে যথাযথ মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা সম্পর্কে আমাদের একসাথে দাঁড়াতে হবে – পৃথক রাজনৈতিক সত্তা হিসাবে নয়, বরং আমাদের জনগণের ভবিষ্যতের রক্ষক হিসাবে।”সিদ্দারামাইয়াকে লেখা তিন পৃষ্ঠার চিঠিতে স্ট্যালিন সতর্ক করে দিয়েছেন যে, ২০২৬ সালের পরে, পরবর্তী আদমশুমারির ভিত্তিতে আসন পুনর্বণ্টন করা হলে রাজনৈতিক দৃশ্যপট নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হতে পারে। “যেসব রাজ্য তাদের জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করেছে এবং উচ্চতর শাসন সূচক অর্জন করেছে, তাদের রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণের মঞ্চে প্রতিনিধিত্ব হ্রাসের শাস্তি দেওয়া হবে।”সিদ্দারামাইয়া এই বিষয়টির তাৎপর্য স্বীকার করেছেন, বিশেষ করে নতুন জনসংখ্যার মানদণ্ডের ভিত্তিতে সংসদীয় ও বিধানসভা নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণের বিষয়ে। তিনি আলোচনায় অংশ নিতে তার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন কিন্তু পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি থাকায় তিনি উপস্থিত থাকতে পারবেন না। তিনি জানিয়েছেন,”যদিও আমি সভায় অংশগ্রহণ করতে চাই, আমার সময়সূচীর কারণে, আমি তা করতে পারছি না। তাই, আমি উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমারকে আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছি।” কেন্দ্রের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে সিদ্দারামাইয়া আরো বলেন “ডিলিমিটেশন গণতন্ত্রকে দুর্বল করে এবং সংবিধানের যুক্তরাষ্ট্রীয় নীতি লঙ্ঘন করে….কর্ণাটক তার অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে – আমরা এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামকে সমর্থন করব।”কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ দক্ষিণ রাজ্যগুলিকে আশ্বস্ত করেছেন যে তাদের এই পরিণতি সম্পর্কে ভয় পাওয়ার দরকার নেই, ডিলিমিটেশনের ফলে আসন সংখ্যা আনুপাতিক হারে হ্রাস পাবে না এবং এর ফলে একটিও দক্ষিনী রাজ্য প্রভাবিত হবে না। কিন্তু এই বক্তব্য যে অর্ধসত্য তা সকলেই জানে। অহিন্দি রাজ্যের আসন না কমলেও হিন্দি বলয়ের আসন এত সংখ্যা বাড়বে যে ভারতে অহিন্দি রাজ্য অধিকারের অলিন্দ থেকে সরে যাবে। স্ট্যালিন বলেছেন- ডিলিমিটেশনের তলোয়ার ঝুলছে দক্ষিনী রাজ্যগুলির উপর, একে ভোঁতা করতে হবে। ডিলিমিটেশনের সমস্যা কী ? ডিলিমিটেশন হল লোকসভা এবং রাজ্য বিধানসভার আসন সংখ্যা নির্ধারণ এবং নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণের প্রক্রিয়া। এটি তফসিলি জাতি (SC) এবং তফসিলি উপজাতি (ST) এর জন্য কতগুলি আসন সংরক্ষিত তাও নির্ধারণ করে। এই অনুশীলনটি ১৯৫১, ১৯৬১ এবং ১৯৭১ সালের আদমশুমারির পরে পরিচালিত হয়েছিল। ৭১ সালে দেখা গেল অহিন্দি বলয়ের জনসংখ্যা স্বাভাবিক ভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়েছে। কিন্তু হিন্দি বলয়ে জনসংখ্যা উত্তরোত্তর বেড়েছে। সুতরাং আসন পুনর্বিন্যাস করতে গেলে ভারতের অহিন্দি রাজ্য বঞ্চিত হবে এবং ভারতের ফেডেরাল কাঠামো ভেঙে পড়বে। তখন এই বিন্যাস ২০০০ সাল পর্যন্ত স্থগিত করে দেয় ইন্দিরা সরকার। এবং হিন্দি বলয়ের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের উপর জোর দেওয়া হয়। ২০০১ সালে অটল সরকারও বিপদ উপলব্ধি করে ২০২৬ পর্যন্ত স্থগিত করেন। সামনে ২০২৬ । ডিলিমিটেশনের জন্য উঠে পড়ে লেগেছে মোদী সরকার। জনসংখ্যার বৈষম্য অব্যাহত থাকায় ডিলিমিটেশন আগামী ত্রিশ বছর পর্যন্ত স্থগিতকরণ আরও বাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলছেন স্ট্যালিন।যদি ২০২৬ সালের আদমশুমারির ভিত্তিতে আসন পুনর্বণ্টন করা হয়, তাহলে উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্যগুলি আরও বেশি আসন পাবে, অন্যদিকে দক্ষিণ এবং ছোট উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্যগুলি রাজনৈতিক প্রভাব হারাতে পারে।মোট আসন ৫৪৩টি রাখা হবে কিনা, কিন্তু রাজ্যগুলির মধ্যে পুনর্বণ্টন করা হবে কিনা, নাকি মোট আসন ৮৪৮-এ উন্নীত করা হবে, যাতে সমস্ত রাজ্য আরও বেশি আসন পাবে, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।উভয় ক্ষেত্রেই, দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্যগুলি,পশ্চিমবঙ্গ, পাঞ্জাব, হিমাচল প্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ডের মতো ছোট উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্যগুলি এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলির আসন সংখ্যা রাষ্ট্রীয় গড় বৃদ্ধির তুলনায় কম শতাংশ হরে বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। এটির ন্যায়সঙ্গতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে অহিন্দি রাজ্যের অধিবাসীরা, কারণ যেসব রাজ্য তাদের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রেখেছে তাদের প্রতিনিধিত্ব কমে যাবে সংসদে। এটি ১৯৭১ সালের আদমশুমারির ভিত্তিতে আসন নির্ধারিত করার মূল ধারণারও পরিপন্থী।যদি ৫৪৩ আসন রাখা হয় বাংলা সহ দক্ষিণের রাজ্যগুলি আসন হারাবে। যদি ৮৪৮ আসন করা হয় উত্তরের রাজ্যগুলির আসন এত বৃদ্ধি পাবে অহিন্দি রাজ্যগুলি সংসদে সংখ্যালঘু হয়ে পড়বে। দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্যগুলিতে বর্তমানে আসন সংখ্যার ২৪% ভাগ রয়েছে, সেখানে আসন সংখ্যা ৫% কমে যাবে। একটি পরিসংখ্যান দেওয়া হল।আসন সংখ্যা ৫৪৩ থাকলে- আসন সংখ্যা জনসংখ্যা অনুসারে বেড়ে ৮৪৮ হলে- সূত্রঃ Vaishnab et al, Carnegie Endowment রাজ্য থেকে যে পরিমাণ কর কেন্দ্রে যায় তার কত শতাংশ কোন রাজ্য পায়, সেদিকে তাকালে দেখা যাবে তামিলনাড়ু ১ টাকায় ফেরত পায় ২৯ পয়সা, কর্নাটক পায় ১৫ পয়সা সেখানে বিহার ১ টাকায় পায় ৭ টাকা, উত্তরপ্রদেশ পায় ২ টাকার বেশি। অহিন্দি জাতির টাকায় উত্তরের রাজ্যগুলি প্রতিপালিত হয়। অথচ দক্ষিণের রাজ্যগুলি, পাঞ্জাব বাংলা ওড়িশা কার্যত হিন্দির উপনিবেশে পরিণত হবে। হিন্দি ভাষা বিতর্কে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান সংসদে বলেছেন-“সস্তা রাজনীতির জন্য আপনারা তামিলনাড়ুর ছাত্র সমাজের ভবিষ্যৎ নষ্ট করছেন। আপনারা অসৎ, অসভ্য। ব্রিটিশ ঔপনিবেশকতা সরিয়ে হিন্দির উপনিবেশ হতে আপনাদের এত আপত্তি কীসের।”  অর্থাৎ হিন্দি বলয়ের মানসিকতা স্পষ্ট।  এখন দেখার বিষয় বাংলার মুখ্যমন্ত্রী কীভাবে সাড়া দেন।

Read More

আমেরিকা ফেরত ১০৪ জন অবৈধ অনুপ্রবেশকারীর মধ্যে ৩৩ জন গুজরাটের, বাংলার শূন্য

৬ ফেব্রুয়ারি,কলকাতা: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে C-17 গ্লোবমাস্টার মিলিটারি উড়োজাহাজ ১০৪ জন নথিবিহীন অনুপ্রবেশকারীকে নিয়ে ভারতে ফিরলো । প্রথমে দিল্লিতে নামার কথা থাকলেও মোদী সরকার উড়োজাহাজটিকে দিল্লির পরিবর্তে পাঞ্জাবের অমৃতসরে অবতরণে অনুমতি দেয়। ১০৪ জনের মধ্যে গুজরাটের ৩৩ জন,হরিয়ানার ৩৩ জন, পাঞ্জাবের ৩০ জন, মহারাষ্ট্রের ৩ জন এবং উত্তর প্রদেশ ও চন্ডিগড় থেকে ২ জন করে। ১ জনের কোনো পরিচয় পাওয়া যায়নি। নরেন্দ্র মোদি সরকার মোট ১৮,০০০ অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে এখনই আমেরিকা থেকে ফিরিয়ে নিয়ে ট্রাম্প সরকারকে সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রায় ৮ লক্ষ ভারতীয় অবৈধ অনুপ্রবেশকারী এই মুহুর্ত্বে আছে আমেরিকায় যার মধ্যে অধিকাংশ গুজরাট এবং পাঞ্জাব থেকে।

Read More

বাজেটে ব্রাত্য বাংলা

২ ফেব্রুয়ারি,কলকাতা: গতবার ১৮ জন বিজেপি সাংসদ নিয়েও বাজেটে বাংলা ছিল বঞ্চিত, এবারেও ১২ জন সাংসদ নিয়েও বাংলার ভাগ্যে সিকে ছিঁড়ল না। ১ তারিখ দেশের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করলেন। এই বাজেট ভারতের বাজেট না বিহার, দিল্লি, অন্ধ্রের বাজেট , এই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী সহ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, অমিত মিত্র প্রমুখ এই বাজেটকে দিশাহীন আখ্যা দিয়েছেন।গত অর্থবর্ষের সংশোধিত বাজেটের থেকে অর্ধেকেরও কম হয়ে গিয়েছে দমদম বিমানবন্দর-নিউগড়িয়া ভায়া রাজারহাট মেট্রো প্রকল্পের বরাদ্দ। এই প্রকল্পে গত অর্থবর্ষে সংশোধিত বাজেট ছিল ১৫৫০ কোটি। এবার তা হয়েছে ৭২০.৭২ কোটি। ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর ক্ষেত্রে সে অর্থে কোনও বদল হয়নি। এই প্রকল্পে গত অর্থবর্ষে বরাদ্দ হয়েছিল ৯০৬ কোটি টাকা। সংশোধিত বরাদ্দে যা কমে হয়ে গেছে ৫০০ কোটি টাকা। এবারও কোনও বদল হয়নি। সামান্য বেড়েছে জোকা-বিবাদি বাগ ভায়া মাঝেরহাট মেট্রোর বরাদ্দ। গত অর্থবর্ষে ১২০৮.৬১ কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও সংশোধিত বাজেটে তা কমে হয় ৮৫০ কোটি টাকা। এবার তা ৬৪ কোটি টাকা বেড়ে হয়েছে ৯১৪ কোটি টাকা। শুধু বাংলা নয়, বঞ্চনার ছবি দেখা গেল রেলের সুরক্ষার দিকেও। আলাদাভাবে সেভাবে সুরক্ষা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর কোনও ইঙ্গিত মিলল না। পরপর দু’বছর রেলের বাজেট আটকে থাকল ২.৫২ লাখ কোটি টাকাতেই। নতুন রেল লাইন, নতুন ট্রেন, নতুন স্টেশন, নতুন কারখানা— কিছুরই ঘোষণা করা হল না।বাংলার উত্তর অংশের অর্থনীতি মূলত চা নির্ভর। অথচ চা নিয়ে একটিও শব্দ খরচ করেননি অর্থমন্ত্রী। টি অ্যাসোশিয়েশন অফ ইন্ডিয়ার উত্তরবঙ্গের চেয়ারম্যান চিন্ময় ধর বলেন, ‘এই বাজেট নিয়ে কিছু বলার নেই আমাদের। আমরা আশাহত। গত একবছর চায়ের নিলাম, চায়ের উৎপাদন দুই ক্ষেত্রেই মার খেয়েছি আমরা। হাজার হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে উত্তরবঙ্গে। ন্যূনতম কোনও বিশেষ সুবিধাও আমরা পেলাম না।” আগে বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা হত। গত কয়েক বছর এসব উধাও। ২০২৪ সাল উত্তরবঙ্গের চা-শিল্পে মহাসংকট তৈরি করে। পাশাপাশি বিদেশ থেকে (কেনিয়া) অবাধে চা আমদানি হয়েছে। গত ৫ বছরের বাজেট বিশ্লেষণ করে চা-মহলের একাংশ জানিয়েছে, উত্তরঙ্গের চা-শিল্প কার্যত বঞ্চিত। দেশে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি চা-শিল্পে মানুষ কর্মরত। বিদেশে চা-রপ্তানিতেও গত ১০ বছর যথেষ্টই পিছিয়ে রয়েছে দেশ। চা উৎপাদন করতে যে খরচ হয়, সেই টাকাই উঠে আসে না অনেক বাগানে চা বিক্রি করে। আর একবার চায়ের মিনিমাম ফ্লোর প্রাইস ঠিক করার দাবিও করেছেন অনেকেই।বিহার বন্যার জন্য বাজেট পেলেও বাংলা এক পয়সাও পায়নি। বাংলার উত্তরে এইম্‌স ও শিলিগুড়িতে মেট্রোর কোনও ঘোষণা এই বাজেটে আসেনি। উড়ান প্রকল্পে বিহার পেলেও বাংলার ভাগ্য প্রায় শূন্য। বাজেটে পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির উন্নতির কথা বললেও বাংলা ব্রাত্যই থেকে গেল। ঘাটাল ও কান্দি মাস্টার প্ল্যানে বরাদ্দ শূন্য। গঙ্গা ভাঙন রোধে নেই কোনও বরাদ্দ। বেঙ্গল কেমিক্যালস এর জন্য বরাদ্দ মাত্র এক লক্ষ টাকা। রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণার উৎকর্ষে স্বাক্ষর রাখার প্রতষ্ঠানগুলির প্রাপ্তি প্রায় শূন্য। বরং এই অর্থ পেয়েছে বেসরকারি সংস্থাগুলি।‘ভারতীয় ভাষা পুস্তক প্রকল্পে’ স্কুল এবং উচ্চ শিক্ষায় বিভিন্ন ভারতীয় ভাষার ডিজিটাল বই তৈরির বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সদ্য প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ জহর সরকার। তিনি বলেন, “ভাষিণী অ্যাপটির মাধ্যমে বিভিন্ন ভারতীয় ভাষা তর্জমা করে আদানপ্রদানের কথা বহু দিন ধরে বলা হলেও তা এখনও নড়বড়ে। ভাষা চর্চায় ভারতের বহুভাষিক ঐতিহ্য রক্ষার বদলে ঘুরপথে হিন্দির প্রভাব বাড়ানোই এই সরকারের লক্ষ্য।”

Read More

সন্তোষ ট্রফি জিতে ঘরে ফিরলো বাংলা দল

আজ রাতে সন্তোষ ট্রফি জয়ী বাংলা দল নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। বিমানবন্দরে বাইরে সন্ধ‍্যা থেকেই ছিলো উৎসাহী জনতার ভিড়। জয় বাংলা ধ্বনি ও ঢাকের আওয়াজে বিমানবন্দর চত্বর ছিলো সরগরম।

Read More

IICB তে ছাঁটাই ৩৬ জন বাঙালি অশিক্ষক কর্মচারী

কলকাতা : জানুয়ারি 1, 2025: বছরের প্রথম দিনই চাকরি হারিয়ে মাথায় হাত পড়েছে ৩৬টি বাঙালি পরিবারের। বছরের শুরুতেই যাদবপুরে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ কেমিক্যাল বায়োলজির মতো স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ৪০ জন কর্মচারী চাকরি হারালো। এদিন গেটের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন কালে চাকরি হারানো কর্মচারীদের দাবি তারা বিগত ২৫-৩০ বছর ধরে ওই প্রতিষ্ঠানে চুক্তিভিত্তিক অশিক্ষক কর্মচারী হিসাবে চাকরিরত ছিলেন। কোন নোটিশ ছাড়াই আজ বছরের প্রথম দিনেই কর্তৃপক্ষ চাকরি থেকে তাদেরকে বরখাস্ত করে। তাদের পরিবর্তে ভিন রাজ্যের মূলত উত্তর প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ ও দিল্লি রাজ্যের বাসিন্দাদের ওই পদগুলিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।বরখাস্ত হওয়া কর্মচারীদের দাবি অনুযায়ী আই.আই.সি.বি. এর ডিরেক্টর ভিভা টেন্ডন নতুন টেন্ডার করে ভিনরাজ্যের লোক জনকে নিয়োগ করেছে কোনো নোটিশ ছাড়াই। চাকরি হারানো একজন কর্মচারী বলেন,”আমরা বিগত ৩০ বছর ধরে এখানে চাকরি করছি। নতুন যাদের চাকরিতে নিয়োগ দিচ্ছে তাদের থেকে ঘুষ নিয়ে অর্থ উপার্জনের জন্য এই কারসাজি করে নতুন নিয়োগ করা হয়েছে। ডিরেক্টর বলছেন যে বাঙালি কাজ পারে না।” এ প্রসঙ্গে বাংলাপক্ষ’র সাংগঠনিক সম্পাদক তথা শীর্ষ পরিষদ সদস্য কৌশিক মাইতি বলেন, “আই.আই.সি.বি. তে চাকরি হারানো ৪০ জনের মধ্যে ৩৬ জন বাঙালি। একজন বাঙালি প্রতিবন্ধী মহিলা কর্মচারীকে পর্যন্ত বার করে দেওয়া হয়েছে। বাংলায় বাঙালিদের বঞ্চিত করে ভিন রাজ্যের বাসিন্দাদের নিয়োগ করে বাঙালিকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র চলছে।” তিনি আরো বলেন চাকরিহারাদের চাকরিতে অবিলম্বে পুনর্বহাল না করলে খুব শীঘ্রই বাংলা পক্ষ আই.আই.সি.বি. এর সামনে বিক্ষোভ শুরু করবে।

Read More
cyclone

ফের বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়, কবে-কোথায় আছড়ে পড়তে পারে Fengal ? বঙ্গে কি প্রভাব পড়বে

রাজ্যে থাবা বসাতে শুরু করেছে শীত। দেশজুড়েই শীতের আমেজ। একাধিক রাজ্যে বজ্র-বিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর মধ্যে চলতি মরসুমেই আরও একটি ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কবার্তা দিল IMD। উত্তর-পূর্ব মৌসুমির মরসুম চলাকালীন সক্রিয় হয়ে ওঠে ভারত মহাসাগর। নভেম্বর মাস নাগাদ ঝোড়ো-কার্যকলাপ বাড়তে থাকে। যদিও এ বছর এখনও পর্যন্ত তুলনামূলকভাবে শান্ত রয়েছে পরিস্থিতি। এখনও পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’-র প্রকোপই দেখা গেছে। কিন্তু, এবার এল নতুন ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কবার্তা। ঘূর্ণিঝড় Fengal – বঙ্গোপসাগরে দানা বাঁধছে নতুন ঘূর্ণিঝড় । এমনই পূর্বাভাস দিয়েছে IMD। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের দক্ষিণে আন্দামান সমুদ্রে নতুন একটি সাইক্লোন আসতে পারে। নভেম্বরের ২১ তারিখেই এর উৎপত্তি। তবে, এর তীব্রতা বাড়বে ২২ ও ২৩ নভেম্বর। যদি এটি ঝড়ে পরিণত হয়, তাহলে এটি মরসুমের দ্বিতীয় ঘূর্ণিঝড় হতে চলেছে। সদস্য দেশগুলির এই ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের পরিপ্রেক্ষিতে, এর নাম হতে চলেছে ‘ফিনজল’ বা মতান্তরে ‘ফিঞ্জল’ (Fengal)। এর নামকরণ প্রস্তাব করেছে সৌদি আরব। ধ্বংসলীলা চলতে পারে শ্রীলঙ্কায় IMD-র পূর্বাভাস অনুযায়ী, নিম্নচাপ শক্তি বাড়িয়ে পশ্চিমের দিকে অগ্রসর হতে পারে এবং উত্তর-পশ্চিম দিকেও। পরবর্তীকালে তা ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। এই মুহূর্তের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৬ ও ২৭ নভেম্বর এই ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়তে পারে উত্তর শ্রীলঙ্কায়। যদিও IMD বলছে এখনই এব্যাপারে সুনির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব হবে না। কতটা তীব্র হতে পারে তাও এখনও স্পষ্ট নয়। আগামী দিনে আবহাওয়ার গতি-প্রকৃতি কোন দিকে এগোচ্ছে তার উপর সবকিছু নির্ভর করছে। তখনই বোঝা যাবে, এটি পূর্ণাঙ্গ ঝড়ে পরিণত হতে চলেছে কি না। প্রসঙ্গত, নভেম্বর মাস নাগাদ বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হলে তার প্রভাব পড়ে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গে । এই পথে মাঝেমধ্যে পড়ে যায় বাংলাদেশ। সম্প্রতি আছড়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’। নাম তার ‘দানা’। যার অর্থ মূল্য়বান মুক্ত। কিন্তু কাজের দিক থেকে সে ক্ষতিকারক! ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’র কারণে জেলার পর জেলায় চাষের ব্য়াপক ক্ষতি হয়েছে। কার্যত বিপর্যয় নেমে এসেছে চাষিদের উপর। তবে ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’র প্রভাব বাংলায় তেমনভাবে না পড়লেও বিদ্যুতের তার আর রাস্তায় জমা জলে মরণ-ফাঁদ তৈরি হয়।

Read More

আট দিন পরে ‘ভয়াবহ’ বায়ুদূষণ থেকে দিল্লিবাসীর মুক্তি, তবে এখনও ‘খুব খারাপ’ রাজধানীর বাতাস

টানা ৩ দিন ঘন ধোঁয়াশায় ঢুবে রয়েছে রাজধানী। ইতিমধ্য়েই স্কুল বন্ধ করা হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের গাড়ি রাজধানীতে ঢোকার ব্যাপারে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। মঙ্গলবার দিল্লির এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা এআইকিউ গিয়ে দাঁড়াল ৪৮৮। কিন্তু রাজধানীর এই ভয়ংকর দুষণের কারণ কী? প্রায়শই শোনা যায় দিল্লি দূষণের মূল কারণ পঞ্জাব ও হরিয়ানার চাষিদের খড় পোড়ানো। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর পেছনে রয়েছে অন্য কারণ।   সেন্টার ফর রিসার্চ অ্য়ান্ড ক্লিন এয়ার বা সিআরইএ-র সমীক্ষা অনুযায়ী দিল্লি এনসিআর এলাকায় তাপ বিদ্যুত্  কেন্দ্রগুলি যে দূষণ ছড়ায় তা চাষিদের খড় পোড়ানোর থেকে ১৬ গুন বেশি। চাষিদের ৮৯০ লাখ টন খড় পোড়ানোর ফলে ১৭.৮ কিলোটন দূষণ ছড়ায়। ২০২২ সালের জুন মাস থেকে ২০২৩ সালের মে মাস পর্যন্ত দিল্লি এনসিআরের তাপবিদ্যুত্ কেন্দ্রগুলি ২৮১ কিলোটন সালফার ডাই অক্সাইড তৈরি করেছে। দিল্লি দূষণের মূল কারণ সালফার ডাই অক্সাইড। আর তাতে বেশি অবদান রয়েছে তাপ বিদ্যুত্ কেন্দ্রগুলির। শীতে বাতাস ঠান্ডা হয়েছে। আর বাতাসের প্রবাহও কম। এতেই দূষিত বাতাস সরে যাওয়ার সুযোগ অনেকটাই কম করে দিয়েছে। অর্থাত্ শহরের মধ্যেই আটকে থাকছে দূষিত বাতাস। এদিকে, শহরের পরিস্থিতি বিচার করে একাধিক পদক্ষেপ করেছে দিল্লি সরকার।  দূষণ আটকানোর জন্য শহরে ট্রাক ঢোক নিষিদ্ধ করেছে সরকার। পাশাপাশি সব বেসরকারি নির্মাণের কাজ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকার যেসব ব্যবস্থা নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য ছাড়া অন্যান্য পণ্যবাহী ট্রাক শহরে ঢুকতে দেওয়া হবে না। গুরুত্বপূর্ণ নয় দিল্লির বাইরের এমন হালকা গাড়ি শহরে ঢুকতে দেওয়া হবে না। তবে ছাড় দেওয়া হয়েছে সিএনজি ও বিএস ৬ ডিজেল গাড়িকে। বেসরকারি সব নির্মাণ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বন্ধ রাখতে হবে হাইওয়ে, রাস্তা, ফ্লাইওভার, বিদ্য়ুত লাইন, জলের লাইন বসানোর কাজ। সরকারি অফিসে ৫০ শতাংশ হাজিরা রেখে বাকীদের বাড়ি থেকে কাজ করতে বলা হয়েছে। সোমবার থেকে দশম ও দ্বাদশ শ্রেণি ছাড়া বাকী স্কুল পড়ুয়াদের ক্লাস বাতিল করতে স্কুলগুলিকে বলা হয়েছে।

Read More