বাংলা ভাষায় সকল পরিষেবার দাবিতে এবং বহিরাগত রেলকর্মী ও RPF দ্বারা বাঙালি যাত্রীদের হেনস্থার প্রতিবাদে কলকাতা মেট্রোয় ডেপুটেশন বাংলা পক্ষর

কলকাতা, ১৯শে ফেব্রুয়ারিঃ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রাক্কালে ‘ভাষা অধিকার সপ্তাহ পালন করছে বাংলা পক্ষ। আজ সংগঠনটির পক্ষ থেকে কলকাতা মেট্রোর সদর দপ্তরে বিভিন্ন দাবিতে ডেপুটেশন দেওয়া হয়।এক প্রতিনিধি দল মেট্রো রেলের অধিকর্তার সাথে দেখা করেন, সেই দলে ছিলেন শীর্ষ পরিষদ সদস‍্য তথা সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি, শীর্ষ পরিষদ সদস‍্য অরিন্দম চট্টোপাধ‍্যায়, আব্দুল লতিফ, কলকাতা সাংগঠনিক জেলার সম্পাদক সৌম‍্য বেরা, উত্তর ২৪ পরগণা(গ্রামীন) সাংগঠনিক জেলার সম্পাদক দেবাশীষ মজুমদার ও কলাকাতার দপ্তর সম্পাদক সৌগত মজুমদার। ডেপুটেশনের আগে শতাধিক সদস‍্য এক বিক্ষোভ কর্মসূচীতে অংশ নেন। মেট্রোর পরিষেবায় বাংলা ভাষা উপেক্ষার কথা, বহিরাগত RPF ও বুকিং ক্লার্কদের একাংশের বাংলা বলতে অস্বীকার করার কথা উঠে আসে বিক্ষোভকারীদের মুখে। সংগঠনের পক্ষ থেকে টিকিট কাউন্টারের কর্মী ও RPF কর্মীদের বাংলা জানা বাধ‍্যতামূলকের দাবি করা হয়। মেট্রো স্টেশনের প্রতিটি নির্দেশিকায় বাংলা ভাষা রাখার দাবি জানানো হয়। প্রবীণ নাগরিকদের স্বার্থে মেট্রো স্টেশনে শৌচালয় ও কবি সুভাষ মেট্রো স্টেশনের সংস্কার প্রক্রিয়া দ্রুত করার দাবিও জানায় বাংলা পক্ষ।সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বাংলা পক্ষর সাধারণ সম্পাদক গর্গ চট্টোপাধ‍্যায় বলেন ” এই বিশ্বের খুব অল্প কিছু জাতিই আজও তার মাটিতে নিজের মাতৃভাষায় পযিষেবা পায় না, ভারতের বাঙালি এই দুর্ভাগা জাতিগুলির অন‍্যতম। ২১ শে ফেব্রুয়ারি কোন সাংস্কৃতিক উদযাপন বা সেই বীর ভাষা শহীদদের স্মৃতিতর্পণের মধ‍্যেই সীমাবদ্ধ হতে পারে না। সারা বিশ্বের নিপীড়িত জাতির মাতৃভাষার অধিকার আদায় করার প্রেরণা হল একুশ। বাংলা পক্ষ স‌গঠনও সেই লক্ষ‍্যেই ভাষা অধিকার সপ্তাহ পালন করছে।”ডেপুটেশনের পর সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি জানান” মেট্রো রেল আধিকারিক দীর্ঘ সময় সদর্থক আলোচনা করেছেন, আমাদের দাবির সাথে তিনি সহমত জানিয়েছেন। বাংলা ভাষার মর্যাদা ও ব‍্যবহারের বিষয়ে তিনি নিজে সচেতন বলেই জানিয়েছেন। মেট্রোর সংস্কার প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হবে বলেই জানানো হয়েছে। আমরা আশা রাখছি মেট্রো কর্তৃপক্ষ আজকের প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়ন করবে।”শীর্ষ পরিষদ সদস‍্য অরিন্দম চট্টোপাধ‍্যায় ও কলকাতা জেলার সম্পাদক সৌম‍্য বেরা উভয়ই জানালেন আলোচনা সদর্থক এবার কতটা বাস্তবায়ন হয় সেদিকে সংগঠন খেয়াল রাখবে। মেট্রোর বহিরাগত কর্মীদের দ্বারা বাঙালিকে “বাংলাদেশী” তকমা পেতে আগামীদিনে আর হবে না, বা এই ধরনের জাতি বিদ্বেষী কর্মীদের উপর প্রশাসনিক ব‍্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব হবে বলেই আশা করা যায়।

Read More

কলকাতা পুরসভা সমস্ত সাইনবোর্ডে বাংলা ভাষা বাধ্যতামূলকের আইন কার্যকর করার দাবিতে পুরসভায় বিক্ষোভ ও ডেপুটেশন বাংলা পক্ষর

কলকাতা, ১৯শে ফেব্রুয়ারিঃ দীর্ঘ আন্দোলনের পর গত বছর কলকাতা পুরসভা নিয়ম করে যে কলকাতা পুরসভা এলাকায় সমস্ত সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড ও বিজ্ঞাপনে বাংলা ভাষার বাধ্যতামূলক করে। কিন্তু গত একবছরে এই আইন কোনোভাবে কার্যকর করেনি পুরসভা। এর প্রতিবাদে কলকাতা পুরসভার সামনে বিক্ষোভ ও ডেপুটেশন কর্মসূচী করল বাংলা পক্ষ। সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতির নেতৃত্বে এই আন্দোলন হয়। বাংলা ভাষা ইস্যুতে মেয়রকে কাঠগড়ায় তোলে বাংলা পক্ষ। স্পষ্ট বলা হয়, বাঙালির ভোট পেতে গেলে বাংলা ভাষা ও বাঙালি জাতির অধিকার সুনিশ্চিত করতে হবে। বাংলা পক্ষর দাবিগুলো হল- ১. সমস্ত সাইনবোর্ড, দোকান বা অফিসের নাম, বিজ্ঞাপনে সবচেয়ে বড় করে বাংলা ভাষা লেখা বাধ্যতামূলক করতেই হবে৷ এমম কাগুজে আইন চাই না। কার্যকর করতেই হবে। ২. কলকাতার সমস্ত হকারি স্পটে শুধুমাত্র বাংলার ভূমিপুত্ররা ব্যবসা করবে৷ বাইরের রাজ্যের লোককে হকার কার্ড দেওয়া চলবে না। ৩. কলকাতায় কমপক্ষে ১৫ বছর না থাকলে, পুলিস ভেরিফিকেশন না করে বহিরাগতদের মুড়ি-মুড়কির মতো ডোমিসাইল দেওয়া যাবে না। বাংলা পক্ষর চার সদস্যের প্রতিনিধি দল পুরসভার সচিবের সাথে দীর্ঘ মিটিং করেন। চার সদস্যের প্রতিনিধি দলে ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি, শীর্ষ পরিষদ সদস্য ডা: আব্দুল লতিফ, উত্তর চব্বিশ পরগনা গ্রামীনের সম্পাদক দেবাশীষ মজুমদার, হুগলীর সম্পাদক কৌশিক চট্টোপাধ্যায়। আলোচনা ফলপ্রসু হয়েছে। সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি বলেন, “বাংলা ভাষায় কথা বললে বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাঙালিকে আক্রমণ করা হচ্ছে। বাংলা ভাষা মানে বাংলাদেশী ভাষা বলছে বিজেপির দিল্লি পুলিসও। এই সময় বাংলার সমস্ত ক্ষেত্রে বাংলা ভাষা ও বাঙালির অধিকার সুরক্ষিত করা সময়ের দাবি৷ কলকাতা পুরসভা ১ বছর আগে নিয়ম করলো যে সমস্ত সাইনবোর্ড ও বিজ্ঞাপনে বাংলা ভাষা বাধ্যতামূলক ভাবে রাখতে হবে। কিন্তু বহিরাগত মেয়র ফিরহাদ হাকিম নিশ্চয়ই বাংলা ভাষার পক্ষে নয়। তাই তিনি নিজের পুরসভারই এই আইন কার্যকর করতে উদ্যোগ নেননি৷ কেন? আমরা জানতে চাই। আমরা সাইনবোর্ডে বাংলা ভাষা চাই।” এছাড়া কর্মসূচীতে উপস্থিত ছিলেন শীর্ষ পরিষদ সদস্য অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা জেলার সম্পাদক সৌম্য বেরা, অভিজিৎ দে প্রমুখ। শীর্ষ পরিষদ সদস্য অরিন্দম চট্টোয়াপাধ্যায় বলেন, “কলকাতার ফুটপাতে ভিন রাজ্যের বহিরাগত হকারে ভরে গেছে৷ তারা অনেক ক্রাইমও করে। বাঙালি অন্য রাজ্যে মার খেয়ে বাড়ি ফিরছে। এখানে বাইরের লোক কাজ করছে। তাহলে বাঙালি যাবে কোথায়? ফুটপাতে বাঙালি ব্যবসা করবে। আমরা বাঙালি হকার চাই”

Read More

আগামী ১১ ই জানুয়ারী, রবিবার বাংলা পক্ষর ডাকে ধর্মতলায় মহা সমাবেশের প্রাক কালে আজ কলকাতা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করল বাংলা পক্ষ।

কলকাতা, ০৮ জানুয়ারি: আজ প্রেস ক্লাবে বক্তব্য রাখেন বাংলা পক্ষর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক গর্গ চট্টোপাধ্যায়, সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি, শীর্ষ পরিষদ সদস্য অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা জেলার সম্পাদক সৌম্য বেরা এবং উত্তর চব্বিশ পরগনা গ্রামীনের সম্পাদক দেবাশীষ মজুমদার। আজ সাংবাদিক সম্মেলন থেকে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনককে কেন্দ্র করে বাংলার প্রতিটা জেলা ভিত্তিক দাবি সনদ প্রকাশ করে বাংলা পক্ষ। প্রতিটা জেলার ভূমিপুত্রদের চাকরি-কাজ-ব্যবসার দাবি, ভারতীয় সেনায় বাঙালি রেজিমেন্টের দাবি থেকে জলপাইগুড়িতে বাংলার দ্বিতীয় AIIMS এর দাবি আছে এই দাবি সনদে। কৃষক, শ্রমিক থেকে ব্যবসায়ী, চাকরিপ্রার্থী সকলের দাবি আছে এই দাবিপত্রে। বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং বাংলায় চাকরি ও কাজে ভূমিপুত্র সংরক্ষণের দাবি প্রাধান্য পেয়েছে এই দাবি সনদে। আছে বাংলা ভাষার অধিকারের নানা দাবিও। ১১ জানুয়ারী বাঙালির মহা সমাবেশে যোগদান করার জন্য বাংলার ভূমিপুত্রদের কাছে আহ্বান জানানো হয়। আবেদন করা হয় বাংলার সংবাদ মাধ্যমের কাছেও। ২০২৬ সালে বাংলার কোনো বিধানসভা কেন্দ্রে কোনো দল বহিরাগত প্রার্থী দিলে তাকে পরাজিত করতে সরাসরি লড়াইয়ে থাকবে বাংলা পক্ষ। সাংবাদিক সম্মেলন থেকে এই কথা স্পষ্ট ভাবে জানানো হয়। আগামী ১১ জানুয়ারী বাঙালির অধিকারের জন্য লড়াইয়ের শপথ নিয়ে কোচবিহার থেকে পূর্ব মেদিনীপুর প্রতিটা জেলা থেকে হাজার হাজার বাঙালি (কমপক্ষে ১০ হাজার বাঙালি) ধর্মতলায় ভিড় জমাবে। বাংলা পক্ষ ভোটে নেই। কিন্তু বাংলা পক্ষ দাবিগুলো এই নির্বাচনে লড়বে। বাঙালি তথা ভূমিপুত্রদের অধিকার প্রতিষ্ঠাই একমাত্র লক্ষ্য।

Read More

SIR এর খসড়া তালিকা প্রকাশ, ধরা পড়ল লাখ লাখ হিন্দি- উর্দু বলা রোহিঙ্গা, SIR এ বিপদে মতুয়া সহ উদ্বাস্তুরা। বাংলা পক্ষর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

কলকাতা, ১৮ই ডিসেম্বর ২০২৫: গত ১৬ ডিসেম্বর বাংলার SIR এর ড্রাফট লিস্ট প্রকাশিত হয়েছে। ইতিমধ্যে ৫৮ লাখ মানুষের নাম বাদ পড়েছে SIR এর খসড়া তালিকায়। ৫৮ লাখের মধ্যে ২৪ লাখ মানুষ মৃত, তাই বাদ পড়েছে। স্থানান্ততিত, খুঁজে পাওয়া যায়নি এবং ইতিমধ্যে অন্য জায়গায় ভোটার লিস্টে আছে- এই তিন ক্যাটেগোরিতে বাদ পড়েছে প্রায় ৩৪ লাখ মানুষ। যারা দেড় কোটি রোহিঙ্গা বা বাংলাদেশী মুসলমান খুঁজছিলেন, তারা হতাশ। মিডিয়ার সাংবাদিক সহ অনেক রাজনীতিবিদ বা সাধারণ মানুষ অনেকেই বুঝতে পারছেন না যে কলকাতা, শহরাঞ্চল ও শিল্পাঞ্চলগুলোয় লাখ লাখ মানুষের নাম বাদ পড়া মানুষগুলো কারা? এরা মূলত হিন্দি ও উর্দু ভাষী। এরা এতদিন দু রাজ্যের ভোটার ছিল। বাংলায় লাখ লাখ এমন ক্রিমিনাল আছে, যাদের দু রাজ্যে ভোট৷ বিহার/ ইউপি/ ঝাড়খন্ড/ রাজস্থান/ গুজরাট / উড়িষ্যা ও বাংলা দু জায়গাতেই ভোট দিত এরা। বাংলা পক্ষ দীর্ঘ দিন দু রাজ্যে ভোটার কার্ড থাকা ক্রিমিনালদের বিরুদ্ধে লড়ছে। SIR শুরুর সাথে সাথে ময়দানে নামে বাংলা পক্ষ। নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে CEO, West Bengal এর সাথে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করা হয় এবং স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়৷ বাংলার প্রতিটা জেলা শাসকের অফিসে আন্দোলন ও স্মারকলিপি জমা দেওয়া চলে৷ স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয় SDO দেরও। এছাড়া বাংলা জুড়ে মিটিং, মিছিল ও পথসভা সংগঠিত হয়৷ দু রাজ্যে ভোটার কার্ড থাকা ক্রিমিনালদের বাংলার SIR থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জোরালো হয়। ড্রাফট লিস্ট প্রকাশিত হওয়ার পর দেখা যাচ্ছে যে প্রায় ২০-২৫ লাখ ভোটার, যাদের দু রাজ্যে ভোটার কার্ড তারা বাদ পড়েছে। এদের মুখের ভাষা মূলত হিন্দি ও উর্দু। সেজন্যই চৌরঙ্গী ও জোড়াসাঁকোর মতো বিধানসভায় সবচেয়ে বেশি নাম বাদ পড়েছে৷ প্রচুর নাম বাদ পড়েছে কলকাতা বন্দরেও৷ একই চিত্র রাজ্যের সমস্ত শিল্পাঞ্চলে। শিলিগুড়ি, খড়গপুর ও আসানসোলে একই জিনিস দেখা গেছে। বাংলা পক্ষ ছাড়া কেউ এই দু রাজ্যে ভোটার কার্ড ইস্যুতে লড়াই করেনি। ওদের কয়েকলাখ মানুষ ভয় পেয়ে বাংলায় SIR ফর্ম জমা করেনি। কিন্তু কয়েকলাখ হিন্দি- উর্দু ভাষী এখনও দু রাজ্যে নাম তুলেছে। তারা বে- আইনি কাজ করেছে। এদের বাংলা পক্ষ হুঁশিয়ারি দিচ্ছে যাতে ওরা দ্রুত SIR লিস্ট থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেয়। আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি জানাচ্ছি যাতে দু রাজ্যে ভোটার কার্ড থাকা ১০০% ক্রিমিনালদের নাম বাংলার লিস্ট থেকে বাতিল করে। এছাড়াও খসড়া তালিকা প্রকাশের পর দেখা যাচ্ছে যে উদ্বাস্তু হিন্দু বাঙালি, মূলত মতুয়ারা বিপদে। কয়েক লাখ উদ্বাস্তু বাঙালির নাম বাদ গেছে ভোটার লিস্ট থেকে। ২০১৯ থেকে বিজেপি এই মানুষগুলোকে CAA র মাধ্যমে নাগরিকত্ব দেওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে ভোট নিয়েছিল। এখনও মতুয়া সহ উদ্বাস্তুরা নাগরিকত্ব পায়নি, কিন্তু ভোটার লিস্ট থেকে নাম কাটলো বিজেপি। দেশভাগের বলি হওয়া উদ্বাস্তু হিন্দু বাঙালির ভোটাধিকার কেড়ে নিল বিজেপি। উদ্বাস্তু হিন্দু বাঙালির নি:শর্ত ও অবিলম্ব নাগরিকত্ব এবং ভোটাধিকারের দাবিতে বাংলা পক্ষ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও বাংলার দার্জিলিং ও কালীম্পং এ এমন হাজার হাজার মানুষ আছে যারা নেপালের নাগরিক। ইন্দো- নেপাল চুক্তি অনুযায়ী কেউ নেপাল থেকে এসে বাংলা তথা ভারতে থাকতে পারে, ঘর-বাড়িও করতে পারে। কিন্তু ভোটার কার্ড করতে পারে না৷ যারা বাংলার ভূমিপুত্র নেপালী, আমরা তাদের পক্ষে। কিন্তু যারা নেপাল থেকে এসে অবৈধ ভাবে বাংলার ভোটার লিস্টে নাম তুলেছে তাদের নাম বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করেছিল। অনেক অবৈধ নেপালীর নাম বাদ গেছে। আরও অনেকে আছে। আবারও বলতে চাই যে আমরা বৈধ নেপালীদের ভাই মনে করি। দু রাজ্যে যাদের ভোট তাদের নাম সম্পূর্ণ ভাবে বাদ দেওয়ার দাবি এবং হিন্দু উদ্বাস্তু বাঙালির ভোটাধিকারের দাবিতে বাংলা পক্ষর আন্দোলন তীব্রতর হবে।

Read More

জলপাইগুড়ির দোমোহনীতে দ্বিতীয় AIIMS এর দাবিতে জলপাইগুড়ি শহরে বিরাট মিছিল বাংলা পক্ষর

১৩ জুলাই, জলপাইগুড়ি :বিহারে দুটো AIIMS, ইউপিতে তিনটে AIIMS. কিন্তু বাংলায় একটা AIIMS কেন? কেন বাংলাকে এত বঞ্চনা? জলপাইগুড়ির দোমোহনীতে দ্বিতীয় AIIMS এর দাবিতে জলপাইগুড়ি শহরে বাংলা পক্ষর বিরাট মিছিল হল।বিহারের থেকে অনেক গুণ বেশি ট্যাক্স দেয় বাংলা। মালদা উত্তর থেকে আলিপুরদুয়ার পর্যন্ত ৬ টা সাংসদ বিজেপির৷ তারা “উত্তরবঙ্গ বঞ্চিত” বলে উত্তরের জেলাগুলোয় ক্ষোভ উস্কে রাজনীতি করে। কিন্তু বিজেপি সাংসদরা উত্তরের জেলার উন্নতিতে কোনো কাজ করে না৷ দিল্লি আরও বেশি বঞ্চিত করে।বাংলা পক্ষ দ্বিতীয় AIIMS এর দাবিতে লড়ছে। জলপাইগুড়ির দোমোহনীতে রেলের ৪০০ একর পরিত্যক্ত জমি আছে। তাই জমির সমস্যা নেই, এই জমি কেন্দ্র সরকারের অধীনেই আছে৷ সেই জমিতেই দ্বিতীয় AIIMS চাই। মিছিলে উপস্থিত ছিলেন বাংলা পক্ষর সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক গর্গ চট্টোপাধ্যায়৷ ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি, শীর্ষ পরিষদ সদস্য রজত ভট্টাচার্য, আব্দুল লতিফ, জলপাইগুড়ি জেলার সম্পাদক অভিষেক মিত্র মজুমদার, শিলিগুড়ি জেলা সম্পাদক গিরিধারী রায়, আলিপুরদুয়ার জেলা সম্পাদক উত্তম দাস প্রমুখ৷ গর্গ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “বিহারে দুটি, ইউপিতে তিনটি AIIMS, বাংলাতেও দুটো AIIMS চাই। দ্বিতীয় AIIMS এর দাবিতে জলপাইগুড়িতে বিরাট মিছিল হল৷ জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর, আলিপুরদুয়ার, দার্জিলিং, কালিম্পং এর ভূমিপুত্রদের গণদাবি হল দ্বিতীয় AIIMS এর দাবি। বাংলা পক্ষ এই দাবি আদায় করবেই। জলপাইগুড়ির দোমোহনীতে দ্বিতীয় AIIMS হবেই।”

Read More

শ্লীলতাহানির প্রতিবাদ করতে গিয়ে আক্রান্ত সাংবাদিক

০১ এপ্রিল, ২০২৫, কলকাতা: গত ৩০ মার্চ শিয়ালদহ স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম থেকে বেরোনোর পথে এক ব্যক্তি এক বা একাধিক মহিলার শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। বঙ্গপ্রহরী আপডেট্‌স নামক মিডিয়া চ্যানেলের এডিটর-ইন-চিফ বিক্রমাদিত্য রায়চৌধুরী ও তার চিত্র সাংবাদিক বোধিস্বত্ত্ব বোস ক্যানিং–শিয়ালদা লোক্যাল ট্রেনে ৫.৩০ মিনিটে স্টেশনে নেমে বের হওয়ার পথে ব্যাপারটি লক্ষ করেন এবং ঘটনাটি ভিডিয়ো করেন। শুধু তাই নয় এই নিয়ে তারা প্রতিবাদ করেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি ও শ্লীলতাহানির শিকার মহিলাটিকে নিয়ে তারা আর পি এফ এর কাছে নিয়ে যান। একজন মহিলা আরপিএফ বিষয়টি সামাল দিতে তার সহকর্মী রজনীশ কুমারকে ডাকে। রজনীশ কুমার ঘটনাটি সঠিক পর্যবেক্ষণ না করেই শ্লীলতাহানির শিকার মহিলা ও উপস্থিত জনতার ভিড়কে সরিয়ে দিতে উদ্যত হন এবং চেঁচাতে থাকেন। ফলত, শ্লীলতাহানির শিকার মহিলা ও ভয় পেয়ে ভিড়ের সাথে চলে যান। এরপর রজনীশ কুমার তাদের আর.পি.এফ অফিসে নিয়ে যান। যাওয়ার পথে তিনি বিক্রমাদিত্য এবং তার সহকর্মীর সাথে ক্রমাগত খারাপ আচরণ ও বচসা করতে থাকেন। অফিসে পৌঁছানোর পর বিক্রমাদিত্য যখন ডিউটি অফিসারের সাথে কথা বলতে চায়, তখন অফিসারটি কথা না শুনে তাদের ধমক দেন ও অশালীন শব্দ ব্যবহার করেন। এরপর তিনি বিক্রমাদিত্যের উপর আক্রমণ করেন এবং তার চিত্র সাংবাদিকের মোবাইল ফোনটি ফেলে দেন। চিত্রসংবাদিক বোধিস্বত্ত্ব বোস আত্মরক্ষার জন্য আরপিএফের আচরণ ক্যামেরা বন্দী করছিল। বিক্রমাদিত্যকে সজোরে আঘাত করার ফলে রক্তক্ষরণ হয় এবং আঘাত প্রাপ্ত হন।বিক্রমাদিত্য রায়চৌধুরী এই বিষয়ে শিয়ালদা জিআরপির কাছে অভিযোগ করেন। নিজের কর্তব্য করতে গিয়ে বা অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে উলটে প্রতিবাদকারীকেই হেনস্থা হতে হচ্ছে। বাংলার স্টেশনে হিন্দিভাষী আরপিএফের এহেন আচরণ একবার নয়, বারবার চোখে পড়ছে। অথচ প্রশাসন নীরব। যদি এই ঘটনার বিহিত না হয়, বাংলাপক্ষ পথে নামার হুমকি দিয়েছে।

Read More

‘ডিলিমিটেশন, অহিন্দি রাজ্যের উপর তলোয়ার’- স্ট্যালিনের চিঠি মমতা সহ সাত মুখ্যমন্ত্রীকে

১৫ মার্চ, কলকাতা: তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন ডিলিমিটেশন বিষয়ে সাতটি অহিন্দি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটিতে(JAC) যোগ দেওয়ার জন্য চিঠি দিয়েছেন। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবত মান, কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন, কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া, অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু, তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি, এমনকি ওড়িশার বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী মোহন চন্দ্র মাঝিকেও আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এম কে স্ট্যালিন আগামি ২২ মার্চ JAC তে যোগ দেওয়ার জন্য।স্ট্যালিন বলেছেন, “এই মুহূর্তটি নেতৃত্ব এবং সহযোগিতার দাবি করে – রাজনৈতিক পার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে বৃহত্তর কল্যাণের জন্য দাঁড়ানো,” তিনি আরও লিখেছেন, “রাজ্যগুলির ন্যায্য সম্পদ সুরক্ষিত করার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উপর গুরুত্বপূর্ণ নীতিগুলিকে প্রভাবিত করার এবং রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে আমাদের অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারগুলিকে যথাযথ মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা সম্পর্কে আমাদের একসাথে দাঁড়াতে হবে – পৃথক রাজনৈতিক সত্তা হিসাবে নয়, বরং আমাদের জনগণের ভবিষ্যতের রক্ষক হিসাবে।”সিদ্দারামাইয়াকে লেখা তিন পৃষ্ঠার চিঠিতে স্ট্যালিন সতর্ক করে দিয়েছেন যে, ২০২৬ সালের পরে, পরবর্তী আদমশুমারির ভিত্তিতে আসন পুনর্বণ্টন করা হলে রাজনৈতিক দৃশ্যপট নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হতে পারে। “যেসব রাজ্য তাদের জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করেছে এবং উচ্চতর শাসন সূচক অর্জন করেছে, তাদের রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণের মঞ্চে প্রতিনিধিত্ব হ্রাসের শাস্তি দেওয়া হবে।”সিদ্দারামাইয়া এই বিষয়টির তাৎপর্য স্বীকার করেছেন, বিশেষ করে নতুন জনসংখ্যার মানদণ্ডের ভিত্তিতে সংসদীয় ও বিধানসভা নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণের বিষয়ে। তিনি আলোচনায় অংশ নিতে তার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন কিন্তু পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি থাকায় তিনি উপস্থিত থাকতে পারবেন না। তিনি জানিয়েছেন,”যদিও আমি সভায় অংশগ্রহণ করতে চাই, আমার সময়সূচীর কারণে, আমি তা করতে পারছি না। তাই, আমি উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমারকে আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছি।” কেন্দ্রের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে সিদ্দারামাইয়া আরো বলেন “ডিলিমিটেশন গণতন্ত্রকে দুর্বল করে এবং সংবিধানের যুক্তরাষ্ট্রীয় নীতি লঙ্ঘন করে….কর্ণাটক তার অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে – আমরা এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামকে সমর্থন করব।”কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ দক্ষিণ রাজ্যগুলিকে আশ্বস্ত করেছেন যে তাদের এই পরিণতি সম্পর্কে ভয় পাওয়ার দরকার নেই, ডিলিমিটেশনের ফলে আসন সংখ্যা আনুপাতিক হারে হ্রাস পাবে না এবং এর ফলে একটিও দক্ষিনী রাজ্য প্রভাবিত হবে না। কিন্তু এই বক্তব্য যে অর্ধসত্য তা সকলেই জানে। অহিন্দি রাজ্যের আসন না কমলেও হিন্দি বলয়ের আসন এত সংখ্যা বাড়বে যে ভারতে অহিন্দি রাজ্য অধিকারের অলিন্দ থেকে সরে যাবে। স্ট্যালিন বলেছেন- ডিলিমিটেশনের তলোয়ার ঝুলছে দক্ষিনী রাজ্যগুলির উপর, একে ভোঁতা করতে হবে। ডিলিমিটেশনের সমস্যা কী ? ডিলিমিটেশন হল লোকসভা এবং রাজ্য বিধানসভার আসন সংখ্যা নির্ধারণ এবং নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণের প্রক্রিয়া। এটি তফসিলি জাতি (SC) এবং তফসিলি উপজাতি (ST) এর জন্য কতগুলি আসন সংরক্ষিত তাও নির্ধারণ করে। এই অনুশীলনটি ১৯৫১, ১৯৬১ এবং ১৯৭১ সালের আদমশুমারির পরে পরিচালিত হয়েছিল। ৭১ সালে দেখা গেল অহিন্দি বলয়ের জনসংখ্যা স্বাভাবিক ভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়েছে। কিন্তু হিন্দি বলয়ে জনসংখ্যা উত্তরোত্তর বেড়েছে। সুতরাং আসন পুনর্বিন্যাস করতে গেলে ভারতের অহিন্দি রাজ্য বঞ্চিত হবে এবং ভারতের ফেডেরাল কাঠামো ভেঙে পড়বে। তখন এই বিন্যাস ২০০০ সাল পর্যন্ত স্থগিত করে দেয় ইন্দিরা সরকার। এবং হিন্দি বলয়ের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের উপর জোর দেওয়া হয়। ২০০১ সালে অটল সরকারও বিপদ উপলব্ধি করে ২০২৬ পর্যন্ত স্থগিত করেন। সামনে ২০২৬ । ডিলিমিটেশনের জন্য উঠে পড়ে লেগেছে মোদী সরকার। জনসংখ্যার বৈষম্য অব্যাহত থাকায় ডিলিমিটেশন আগামী ত্রিশ বছর পর্যন্ত স্থগিতকরণ আরও বাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলছেন স্ট্যালিন।যদি ২০২৬ সালের আদমশুমারির ভিত্তিতে আসন পুনর্বণ্টন করা হয়, তাহলে উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্যগুলি আরও বেশি আসন পাবে, অন্যদিকে দক্ষিণ এবং ছোট উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্যগুলি রাজনৈতিক প্রভাব হারাতে পারে।মোট আসন ৫৪৩টি রাখা হবে কিনা, কিন্তু রাজ্যগুলির মধ্যে পুনর্বণ্টন করা হবে কিনা, নাকি মোট আসন ৮৪৮-এ উন্নীত করা হবে, যাতে সমস্ত রাজ্য আরও বেশি আসন পাবে, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।উভয় ক্ষেত্রেই, দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্যগুলি,পশ্চিমবঙ্গ, পাঞ্জাব, হিমাচল প্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ডের মতো ছোট উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্যগুলি এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলির আসন সংখ্যা রাষ্ট্রীয় গড় বৃদ্ধির তুলনায় কম শতাংশ হরে বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। এটির ন্যায়সঙ্গতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে অহিন্দি রাজ্যের অধিবাসীরা, কারণ যেসব রাজ্য তাদের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রেখেছে তাদের প্রতিনিধিত্ব কমে যাবে সংসদে। এটি ১৯৭১ সালের আদমশুমারির ভিত্তিতে আসন নির্ধারিত করার মূল ধারণারও পরিপন্থী।যদি ৫৪৩ আসন রাখা হয় বাংলা সহ দক্ষিণের রাজ্যগুলি আসন হারাবে। যদি ৮৪৮ আসন করা হয় উত্তরের রাজ্যগুলির আসন এত বৃদ্ধি পাবে অহিন্দি রাজ্যগুলি সংসদে সংখ্যালঘু হয়ে পড়বে। দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্যগুলিতে বর্তমানে আসন সংখ্যার ২৪% ভাগ রয়েছে, সেখানে আসন সংখ্যা ৫% কমে যাবে। একটি পরিসংখ্যান দেওয়া হল।আসন সংখ্যা ৫৪৩ থাকলে- আসন সংখ্যা জনসংখ্যা অনুসারে বেড়ে ৮৪৮ হলে- সূত্রঃ Vaishnab et al, Carnegie Endowment রাজ্য থেকে যে পরিমাণ কর কেন্দ্রে যায় তার কত শতাংশ কোন রাজ্য পায়, সেদিকে তাকালে দেখা যাবে তামিলনাড়ু ১ টাকায় ফেরত পায় ২৯ পয়সা, কর্নাটক পায় ১৫ পয়সা সেখানে বিহার ১ টাকায় পায় ৭ টাকা, উত্তরপ্রদেশ পায় ২ টাকার বেশি। অহিন্দি জাতির টাকায় উত্তরের রাজ্যগুলি প্রতিপালিত হয়। অথচ দক্ষিণের রাজ্যগুলি, পাঞ্জাব বাংলা ওড়িশা কার্যত হিন্দির উপনিবেশে পরিণত হবে। হিন্দি ভাষা বিতর্কে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান সংসদে বলেছেন-“সস্তা রাজনীতির জন্য আপনারা তামিলনাড়ুর ছাত্র সমাজের ভবিষ্যৎ নষ্ট করছেন। আপনারা অসৎ, অসভ্য। ব্রিটিশ ঔপনিবেশকতা সরিয়ে হিন্দির উপনিবেশ হতে আপনাদের এত আপত্তি কীসের।”  অর্থাৎ হিন্দি বলয়ের মানসিকতা স্পষ্ট।  এখন দেখার বিষয় বাংলার মুখ্যমন্ত্রী কীভাবে সাড়া দেন।

Read More

আমেরিকা ফেরত ১০৪ জন অবৈধ অনুপ্রবেশকারীর মধ্যে ৩৩ জন গুজরাটের, বাংলার শূন্য

৬ ফেব্রুয়ারি,কলকাতা: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে C-17 গ্লোবমাস্টার মিলিটারি উড়োজাহাজ ১০৪ জন নথিবিহীন অনুপ্রবেশকারীকে নিয়ে ভারতে ফিরলো । প্রথমে দিল্লিতে নামার কথা থাকলেও মোদী সরকার উড়োজাহাজটিকে দিল্লির পরিবর্তে পাঞ্জাবের অমৃতসরে অবতরণে অনুমতি দেয়। ১০৪ জনের মধ্যে গুজরাটের ৩৩ জন,হরিয়ানার ৩৩ জন, পাঞ্জাবের ৩০ জন, মহারাষ্ট্রের ৩ জন এবং উত্তর প্রদেশ ও চন্ডিগড় থেকে ২ জন করে। ১ জনের কোনো পরিচয় পাওয়া যায়নি। নরেন্দ্র মোদি সরকার মোট ১৮,০০০ অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে এখনই আমেরিকা থেকে ফিরিয়ে নিয়ে ট্রাম্প সরকারকে সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রায় ৮ লক্ষ ভারতীয় অবৈধ অনুপ্রবেশকারী এই মুহুর্ত্বে আছে আমেরিকায় যার মধ্যে অধিকাংশ গুজরাট এবং পাঞ্জাব থেকে।

Read More

বাজেটে ব্রাত্য বাংলা

২ ফেব্রুয়ারি,কলকাতা: গতবার ১৮ জন বিজেপি সাংসদ নিয়েও বাজেটে বাংলা ছিল বঞ্চিত, এবারেও ১২ জন সাংসদ নিয়েও বাংলার ভাগ্যে সিকে ছিঁড়ল না। ১ তারিখ দেশের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করলেন। এই বাজেট ভারতের বাজেট না বিহার, দিল্লি, অন্ধ্রের বাজেট , এই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী সহ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, অমিত মিত্র প্রমুখ এই বাজেটকে দিশাহীন আখ্যা দিয়েছেন।গত অর্থবর্ষের সংশোধিত বাজেটের থেকে অর্ধেকেরও কম হয়ে গিয়েছে দমদম বিমানবন্দর-নিউগড়িয়া ভায়া রাজারহাট মেট্রো প্রকল্পের বরাদ্দ। এই প্রকল্পে গত অর্থবর্ষে সংশোধিত বাজেট ছিল ১৫৫০ কোটি। এবার তা হয়েছে ৭২০.৭২ কোটি। ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর ক্ষেত্রে সে অর্থে কোনও বদল হয়নি। এই প্রকল্পে গত অর্থবর্ষে বরাদ্দ হয়েছিল ৯০৬ কোটি টাকা। সংশোধিত বরাদ্দে যা কমে হয়ে গেছে ৫০০ কোটি টাকা। এবারও কোনও বদল হয়নি। সামান্য বেড়েছে জোকা-বিবাদি বাগ ভায়া মাঝেরহাট মেট্রোর বরাদ্দ। গত অর্থবর্ষে ১২০৮.৬১ কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও সংশোধিত বাজেটে তা কমে হয় ৮৫০ কোটি টাকা। এবার তা ৬৪ কোটি টাকা বেড়ে হয়েছে ৯১৪ কোটি টাকা। শুধু বাংলা নয়, বঞ্চনার ছবি দেখা গেল রেলের সুরক্ষার দিকেও। আলাদাভাবে সেভাবে সুরক্ষা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর কোনও ইঙ্গিত মিলল না। পরপর দু’বছর রেলের বাজেট আটকে থাকল ২.৫২ লাখ কোটি টাকাতেই। নতুন রেল লাইন, নতুন ট্রেন, নতুন স্টেশন, নতুন কারখানা— কিছুরই ঘোষণা করা হল না।বাংলার উত্তর অংশের অর্থনীতি মূলত চা নির্ভর। অথচ চা নিয়ে একটিও শব্দ খরচ করেননি অর্থমন্ত্রী। টি অ্যাসোশিয়েশন অফ ইন্ডিয়ার উত্তরবঙ্গের চেয়ারম্যান চিন্ময় ধর বলেন, ‘এই বাজেট নিয়ে কিছু বলার নেই আমাদের। আমরা আশাহত। গত একবছর চায়ের নিলাম, চায়ের উৎপাদন দুই ক্ষেত্রেই মার খেয়েছি আমরা। হাজার হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে উত্তরবঙ্গে। ন্যূনতম কোনও বিশেষ সুবিধাও আমরা পেলাম না।” আগে বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা হত। গত কয়েক বছর এসব উধাও। ২০২৪ সাল উত্তরবঙ্গের চা-শিল্পে মহাসংকট তৈরি করে। পাশাপাশি বিদেশ থেকে (কেনিয়া) অবাধে চা আমদানি হয়েছে। গত ৫ বছরের বাজেট বিশ্লেষণ করে চা-মহলের একাংশ জানিয়েছে, উত্তরঙ্গের চা-শিল্প কার্যত বঞ্চিত। দেশে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি চা-শিল্পে মানুষ কর্মরত। বিদেশে চা-রপ্তানিতেও গত ১০ বছর যথেষ্টই পিছিয়ে রয়েছে দেশ। চা উৎপাদন করতে যে খরচ হয়, সেই টাকাই উঠে আসে না অনেক বাগানে চা বিক্রি করে। আর একবার চায়ের মিনিমাম ফ্লোর প্রাইস ঠিক করার দাবিও করেছেন অনেকেই।বিহার বন্যার জন্য বাজেট পেলেও বাংলা এক পয়সাও পায়নি। বাংলার উত্তরে এইম্‌স ও শিলিগুড়িতে মেট্রোর কোনও ঘোষণা এই বাজেটে আসেনি। উড়ান প্রকল্পে বিহার পেলেও বাংলার ভাগ্য প্রায় শূন্য। বাজেটে পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির উন্নতির কথা বললেও বাংলা ব্রাত্যই থেকে গেল। ঘাটাল ও কান্দি মাস্টার প্ল্যানে বরাদ্দ শূন্য। গঙ্গা ভাঙন রোধে নেই কোনও বরাদ্দ। বেঙ্গল কেমিক্যালস এর জন্য বরাদ্দ মাত্র এক লক্ষ টাকা। রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণার উৎকর্ষে স্বাক্ষর রাখার প্রতষ্ঠানগুলির প্রাপ্তি প্রায় শূন্য। বরং এই অর্থ পেয়েছে বেসরকারি সংস্থাগুলি।‘ভারতীয় ভাষা পুস্তক প্রকল্পে’ স্কুল এবং উচ্চ শিক্ষায় বিভিন্ন ভারতীয় ভাষার ডিজিটাল বই তৈরির বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সদ্য প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ জহর সরকার। তিনি বলেন, “ভাষিণী অ্যাপটির মাধ্যমে বিভিন্ন ভারতীয় ভাষা তর্জমা করে আদানপ্রদানের কথা বহু দিন ধরে বলা হলেও তা এখনও নড়বড়ে। ভাষা চর্চায় ভারতের বহুভাষিক ঐতিহ্য রক্ষার বদলে ঘুরপথে হিন্দির প্রভাব বাড়ানোই এই সরকারের লক্ষ্য।”

Read More

সন্তোষ ট্রফি জিতে ঘরে ফিরলো বাংলা দল

আজ রাতে সন্তোষ ট্রফি জয়ী বাংলা দল নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। বিমানবন্দরে বাইরে সন্ধ‍্যা থেকেই ছিলো উৎসাহী জনতার ভিড়। জয় বাংলা ধ্বনি ও ঢাকের আওয়াজে বিমানবন্দর চত্বর ছিলো সরগরম।

Read More