নিজস্ব সংবাদদাতা

রেলের সমস্ত পরিষেবায় বাংলা ভাষার দাবিতে এবং RPF ও রেলকর্মীদের দ্বারা বাঙালি যাত্রীদের নিয়মিত হেনস্থার প্রতিবাদে পূর্ব রেলের সদর দপ্তরে বাংলা পক্ষর বিক্ষোভ ও ডেপুটেশন

কলকাতা, ২০শে ফেব্রুয়ারিঃ আন্তঃরাষ্ট্রীয় মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বাংলা পক্ষ “বাংলা ভাষার অধিকার সপ্তাহ” পালন করছে। রেলের সমস্ত পরিষেবায় বাংলা ভাষার দাবিতে ইস্টার্ন রেলের সদর দপ্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচী করল বাংলা পক্ষ। বিক্ষোভ শেষে পূর্ব রেলের জেনেরেল ম্যানেজারকে স্মারকলিপি জমা দিল বাংলা পক্ষ। বিভিন্ন ক্ষেত্রের রেলের পরিষেবা বাংলা ভাষায় পাওয়া যায় না। রেলের টিকিট কাউন্টারের বিভিন্ন হিন্দিভাষী কর্মী বাংলা ভাষায় কথা বলতে অস্বীকার করে, বাঙালিকে হিন্দি বলতে বাধ্য করে। এমনকি প্রতিনিয়ত রেল কর্মী ও RPF এর দ্বারা হেনস্থার শিকার হয় বাঙালি। বাংলা ভাষায় কথা বলায় RPF বিভিন্ন সময় বাঙালিকে যাত্রীদের “বাংলাদেশী” দাগিয়ে হেনস্থা করে। বাঙালির হকারদের উপর অত্যাচার করে RPF, জোর পূর্বক ফাইন করে। জিনিসপত্র ফেলে দেয়। এছাড়া বিভিন্ন রেল স্টেশনে শৌচালয়ে অনৈতিক ভাবে বেশি টাকা নেওয়া হয়। বেশি টাকা দিতে অস্বীকার করল বাঙালিকে মারধোর পর্যন্ত করা যায়। এ চিত্র হাওড়া স্টেশন থেকে শিয়ালদা- সর্বত্রই দেখা যায়। এই সবেরই প্রতিবাদে আজ বাংলা পক্ষ বিক্ষোভ করে। বাংলা পক্ষর চার সদস্যের প্রতিনিধি দলে ছিলেন সাধারণ সম্পাদক গর্গ চট্টোপাধ্যায়, সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি, সৌমেন পন্ডা ও ভাস্কর মুখার্জী। ডেপুটেশনের পর গর্গ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “হিন্দি সাম্রাজ্যবাদী রেলের বাঙালি বিদ্বেষী, হিন্দিভাষী RPF রা বাংলাকে বাবার জমিদারি মনে করে। বাঙালিকে রোজ হেনস্থার শিকার হতে হয়। আমরা সাবধান করে দিচ্ছি। বাঙালিকে হেনস্থার অভিযোগ এলে সেসব ক্ষেত্রে রেল দ্রুত পদক্ষেপ করুক। এভাবে ” বাংলাদেশী” দাগিয়ে বাঙালিকে অত্যাচার করা আসলে আগুন নিয়ে খেলা। আশা করি রেল কর্তৃপক্ষর (জেনারেল ম্যানেজার) তরফে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা তারা দ্রুত পূরণ করবে।” কৌশিক মাইতি বলেন, “বাঙালি নিজের মাটিতে নিজের ভাষায় রেল পরিষেবা পাবে, এটাই তো স্বাভাবিক। কিন্তু বাঙালির এমন দুর্ভাগ্য যে বাংলা ভাষায় পরিষেবা চেয়ে রোজ আক্রান্ত হতে হয়। আজ আলোচনা খুব সদর্থক হয়েছে। আশা করি পূর্ব রেল দ্রুত বাংলা ভাষার অধিকার সুনিশ্চিত করবে। এবং বাঙালি বিদ্বেষী RPF দের বাংলা ভাষা শেখায় জোর দেবে। “

Read More

বাংলা ভাষায় সকল পরিষেবার দাবিতে এবং বহিরাগত রেলকর্মী ও RPF দ্বারা বাঙালি যাত্রীদের হেনস্থার প্রতিবাদে কলকাতা মেট্রোয় ডেপুটেশন বাংলা পক্ষর

কলকাতা, ১৯শে ফেব্রুয়ারিঃ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রাক্কালে ‘ভাষা অধিকার সপ্তাহ পালন করছে বাংলা পক্ষ। আজ সংগঠনটির পক্ষ থেকে কলকাতা মেট্রোর সদর দপ্তরে বিভিন্ন দাবিতে ডেপুটেশন দেওয়া হয়।এক প্রতিনিধি দল মেট্রো রেলের অধিকর্তার সাথে দেখা করেন, সেই দলে ছিলেন শীর্ষ পরিষদ সদস‍্য তথা সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি, শীর্ষ পরিষদ সদস‍্য অরিন্দম চট্টোপাধ‍্যায়, আব্দুল লতিফ, কলকাতা সাংগঠনিক জেলার সম্পাদক সৌম‍্য বেরা, উত্তর ২৪ পরগণা(গ্রামীন) সাংগঠনিক জেলার সম্পাদক দেবাশীষ মজুমদার ও কলাকাতার দপ্তর সম্পাদক সৌগত মজুমদার। ডেপুটেশনের আগে শতাধিক সদস‍্য এক বিক্ষোভ কর্মসূচীতে অংশ নেন। মেট্রোর পরিষেবায় বাংলা ভাষা উপেক্ষার কথা, বহিরাগত RPF ও বুকিং ক্লার্কদের একাংশের বাংলা বলতে অস্বীকার করার কথা উঠে আসে বিক্ষোভকারীদের মুখে। সংগঠনের পক্ষ থেকে টিকিট কাউন্টারের কর্মী ও RPF কর্মীদের বাংলা জানা বাধ‍্যতামূলকের দাবি করা হয়। মেট্রো স্টেশনের প্রতিটি নির্দেশিকায় বাংলা ভাষা রাখার দাবি জানানো হয়। প্রবীণ নাগরিকদের স্বার্থে মেট্রো স্টেশনে শৌচালয় ও কবি সুভাষ মেট্রো স্টেশনের সংস্কার প্রক্রিয়া দ্রুত করার দাবিও জানায় বাংলা পক্ষ।সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বাংলা পক্ষর সাধারণ সম্পাদক গর্গ চট্টোপাধ‍্যায় বলেন ” এই বিশ্বের খুব অল্প কিছু জাতিই আজও তার মাটিতে নিজের মাতৃভাষায় পযিষেবা পায় না, ভারতের বাঙালি এই দুর্ভাগা জাতিগুলির অন‍্যতম। ২১ শে ফেব্রুয়ারি কোন সাংস্কৃতিক উদযাপন বা সেই বীর ভাষা শহীদদের স্মৃতিতর্পণের মধ‍্যেই সীমাবদ্ধ হতে পারে না। সারা বিশ্বের নিপীড়িত জাতির মাতৃভাষার অধিকার আদায় করার প্রেরণা হল একুশ। বাংলা পক্ষ স‌গঠনও সেই লক্ষ‍্যেই ভাষা অধিকার সপ্তাহ পালন করছে।”ডেপুটেশনের পর সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি জানান” মেট্রো রেল আধিকারিক দীর্ঘ সময় সদর্থক আলোচনা করেছেন, আমাদের দাবির সাথে তিনি সহমত জানিয়েছেন। বাংলা ভাষার মর্যাদা ও ব‍্যবহারের বিষয়ে তিনি নিজে সচেতন বলেই জানিয়েছেন। মেট্রোর সংস্কার প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হবে বলেই জানানো হয়েছে। আমরা আশা রাখছি মেট্রো কর্তৃপক্ষ আজকের প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়ন করবে।”শীর্ষ পরিষদ সদস‍্য অরিন্দম চট্টোপাধ‍্যায় ও কলকাতা জেলার সম্পাদক সৌম‍্য বেরা উভয়ই জানালেন আলোচনা সদর্থক এবার কতটা বাস্তবায়ন হয় সেদিকে সংগঠন খেয়াল রাখবে। মেট্রোর বহিরাগত কর্মীদের দ্বারা বাঙালিকে “বাংলাদেশী” তকমা পেতে আগামীদিনে আর হবে না, বা এই ধরনের জাতি বিদ্বেষী কর্মীদের উপর প্রশাসনিক ব‍্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব হবে বলেই আশা করা যায়।

Read More

কলকাতা পুরসভা সমস্ত সাইনবোর্ডে বাংলা ভাষা বাধ্যতামূলকের আইন কার্যকর করার দাবিতে পুরসভায় বিক্ষোভ ও ডেপুটেশন বাংলা পক্ষর

কলকাতা, ১৯শে ফেব্রুয়ারিঃ দীর্ঘ আন্দোলনের পর গত বছর কলকাতা পুরসভা নিয়ম করে যে কলকাতা পুরসভা এলাকায় সমস্ত সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড ও বিজ্ঞাপনে বাংলা ভাষার বাধ্যতামূলক করে। কিন্তু গত একবছরে এই আইন কোনোভাবে কার্যকর করেনি পুরসভা। এর প্রতিবাদে কলকাতা পুরসভার সামনে বিক্ষোভ ও ডেপুটেশন কর্মসূচী করল বাংলা পক্ষ। সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতির নেতৃত্বে এই আন্দোলন হয়। বাংলা ভাষা ইস্যুতে মেয়রকে কাঠগড়ায় তোলে বাংলা পক্ষ। স্পষ্ট বলা হয়, বাঙালির ভোট পেতে গেলে বাংলা ভাষা ও বাঙালি জাতির অধিকার সুনিশ্চিত করতে হবে। বাংলা পক্ষর দাবিগুলো হল- ১. সমস্ত সাইনবোর্ড, দোকান বা অফিসের নাম, বিজ্ঞাপনে সবচেয়ে বড় করে বাংলা ভাষা লেখা বাধ্যতামূলক করতেই হবে৷ এমম কাগুজে আইন চাই না। কার্যকর করতেই হবে। ২. কলকাতার সমস্ত হকারি স্পটে শুধুমাত্র বাংলার ভূমিপুত্ররা ব্যবসা করবে৷ বাইরের রাজ্যের লোককে হকার কার্ড দেওয়া চলবে না। ৩. কলকাতায় কমপক্ষে ১৫ বছর না থাকলে, পুলিস ভেরিফিকেশন না করে বহিরাগতদের মুড়ি-মুড়কির মতো ডোমিসাইল দেওয়া যাবে না। বাংলা পক্ষর চার সদস্যের প্রতিনিধি দল পুরসভার সচিবের সাথে দীর্ঘ মিটিং করেন। চার সদস্যের প্রতিনিধি দলে ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি, শীর্ষ পরিষদ সদস্য ডা: আব্দুল লতিফ, উত্তর চব্বিশ পরগনা গ্রামীনের সম্পাদক দেবাশীষ মজুমদার, হুগলীর সম্পাদক কৌশিক চট্টোপাধ্যায়। আলোচনা ফলপ্রসু হয়েছে। সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি বলেন, “বাংলা ভাষায় কথা বললে বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাঙালিকে আক্রমণ করা হচ্ছে। বাংলা ভাষা মানে বাংলাদেশী ভাষা বলছে বিজেপির দিল্লি পুলিসও। এই সময় বাংলার সমস্ত ক্ষেত্রে বাংলা ভাষা ও বাঙালির অধিকার সুরক্ষিত করা সময়ের দাবি৷ কলকাতা পুরসভা ১ বছর আগে নিয়ম করলো যে সমস্ত সাইনবোর্ড ও বিজ্ঞাপনে বাংলা ভাষা বাধ্যতামূলক ভাবে রাখতে হবে। কিন্তু বহিরাগত মেয়র ফিরহাদ হাকিম নিশ্চয়ই বাংলা ভাষার পক্ষে নয়। তাই তিনি নিজের পুরসভারই এই আইন কার্যকর করতে উদ্যোগ নেননি৷ কেন? আমরা জানতে চাই। আমরা সাইনবোর্ডে বাংলা ভাষা চাই।” এছাড়া কর্মসূচীতে উপস্থিত ছিলেন শীর্ষ পরিষদ সদস্য অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা জেলার সম্পাদক সৌম্য বেরা, অভিজিৎ দে প্রমুখ। শীর্ষ পরিষদ সদস্য অরিন্দম চট্টোয়াপাধ্যায় বলেন, “কলকাতার ফুটপাতে ভিন রাজ্যের বহিরাগত হকারে ভরে গেছে৷ তারা অনেক ক্রাইমও করে। বাঙালি অন্য রাজ্যে মার খেয়ে বাড়ি ফিরছে। এখানে বাইরের লোক কাজ করছে। তাহলে বাঙালি যাবে কোথায়? ফুটপাতে বাঙালি ব্যবসা করবে। আমরা বাঙালি হকার চাই”

Read More

বাংলার সমস্ত স্কুলে বাংলা বাধ‍্যতামূলকের দাবিতে এবং স্কুল পাঠ্যে তিনটি বাংলা ভাষা আন্দলোনের ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে শিক্ষা দপ্তরে বাংলা পক্ষর ডেপুটেশন

কলকাতা, ১৮ই ফেব্রুয়ারি : পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে সব বোর্ডের সব মাধ‍্যমের স্কুলে একটি আবশ‍্যিক বিষয় হিসেবে বাংলাকে বাধ‍্যতামূলক করার দাবিতে শিক্ষা দপ্তরে ডেপুটেশন দিল বাংলা পক্ষ। ভারতের সব রাজ‍্যেই সেই রাজ‍্যের মূল ভাষা স্কুলস্তরে বাধ‍্যতামূলক ভাবে পড়তে হয়। স্থায়ীভাবে বসবাস করতে গেলে সেই রাজ‍্যের ভাষা, সংস্কৃতি জানাটা জরুরী। অথচ এই বাংলায় আমরা দেখছি, কয়েক প্রজন্ম বসবাস করেও অনেকেই বাংলা ভাষাটাই জানে না। এরা নিজেরা বাংলা শেখে না, অন‍্যদিকে বাঙালিকে বাংলায় কথা বলার জন‍্য “বাংলাদেশী” বলে হেনস্থা করে। ২০১৭ সালে মুখ‍্যমন্ত্রী দার্জিলিং, কালিম্পং এর পার্বত‍্য অঞ্চল বাদে বাকি বাংলার সব জেলায় সব স্কুলে দশম শ্রেণী পর্যন্ত বাংলা ভাষা শিক্ষা আবশ‍্যিক করার কথা বলেছিলেন। তারপর কোন অজ্ঞাত কারণে সেই ঘোষণার বাস্তবায়ন হয়নি। বাংলা পক্ষ সংগঠন দ্রুত বাংলা বাধ‍্যতামূলকের দাবিতেই আজ ডেপুটেশন দেয়। সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি, প্রীতি মিত্র, অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সুদীপ্ত দাস- চার সদস্যের এক প্রতিনিধি দল স্কুল শিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তার হাতে ডেপুটেশন তুলে দেন।কৌশিক মাইতি বলেন ” ২১ শে ফেব্রুয়ারির প্রাক্কালে ‘ভাষা অধিকার সপ্তাহ’ পালন করছে বাংলা পক্ষ। গতকাল PSC ভবনের পর আজ বিকাশ ভবনে ডেপুটেশন দিলাম। আমরা চাই ভারতের সব রাজ‍্যের মতই এই বাংলাতেও রাজ‍্যের মূলভাষা অর্থাৎ বাংলা বাধ‍্যতামূলক ভাবে শিখতেই হবে প্রতিটি স্কুলে। রাজ‍্য বোর্ড, ICSE, CBSE যে বোর্ডই হোক, সরকারি হোক বা বেসরকারি হোক, কিংবা যেকোনো মাধ্যমই হোক- বাংলা পড়ানো বাধ‍্যতামূলক করতেই হবে।” তিনি মুখ‍্যমন্ত্রীর বক্তব‍্য উদ্ধৃত করে বলেন যে, “বাংলায় থাকতে গেলে বাংলা জানতে হবে”-এটা শুধু মুখের কথা নয় বাস্তবেও যাতে বাংলায় স্থায়ীভাবে থাকা বহিরাগতরা বাংলা শিখতে বাধ‍্য হয় সেটা দেখতে হবে।সেই সঙ্গে তিনি আরও বলেন “১৯৫২ র ঢাকা, ১৯৬১ র আসামের বরাক বা ১৯৫৬ র মানভূম ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস পাঠ‍্যসূচীতে অন্তর্ভূক্ত করতে হবে। সংবিধানে বাংলা ভাষার মর্যাদা ও অধিকার সম্পর্কে ছাত্রছাত্রীদের অবগত করতে হবে।”প্রীতি মিত্র বলেন, “আজ শুধু ভারতের বিভিন্ন বিজেপি শাসিত রাজ‍্যে বাঙালিকে বাংলা ভাষায় কথা বলার জন‍্য বাংলাদেশী বলা হচ্ছে এমন নয়, এই বাংলাতেও বাঙালিকে বাংলাদেশী বলে হেনস্থা করা হচ্ছে। বাংলা ভাষা শিক্ষা ও সরকারিস্তরে তার ব‍্যবহারে বাংলার সরকারের উদাসীনতা এরজন‍্য অনেকটাই দায়ী। স্কুলস্তর থেকে বাংলা ভাষা শিক্ষা, চাকরি পরীক্ষায় বাংলা বাধ‍্যতামূলক করা এইজন‍্যই জরুরী।”

Read More

WBCS সহ রাজ্য সরকারি চাকরিতে বাংলা ভাষা বাধ্যতামূলক এবং সমস্ত শূন্য পদে দ্রুত ও স্বচ্ছ ভাবে নিয়োগের দাবিতে PSC তে বিক্ষোভ ও ডেপুটেশন বাংলা পক্ষর

১৭ ফেব্রুয়ারি, কলকাতাঃ আন্তঃরাষ্ট্রীয় মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ১৭-২১ ফেব্রুয়ারী বাংলা ভাষার অধিকার সপ্তাহ পালন করছে বাংলা পক্ষ। আজ বাংলা পক্ষ পশ্চিমবঙ্গ PSC ভবনে বিক্ষোভ ও ডেপুটেশন কর্মসূচী করল বাংলা পক্ষ। ভারতের সব রাজ্যে PSC র সব পরীক্ষায় সেই রাজ্যের ভাষা বাধ্যতামূলক৷ যেমন বিহার সিভিল সার্ভিসে ১০০ নম্বরের হিন্দি পেপার, গুজরাট সিভিল সার্ভিসে ১৫০ নম্বরের গুজরাটি, মহারাষ্ট্রে ১০০ নম্বরের মারাঠি, ইউপি ও মধ্যপ্রদেশে ৩০০ নম্বরের হিন্দি, উড়িষ্যায় ২৫০ নম্বরের উড়িয়া, কর্ণাটকে ১৫০ নম্বরের কন্নড় পেপার বাধ্যতামূলক৷ বাংলায় সিভিল সার্ভিস WBCS এ বাংলা বাধ্যতামূলক নেই। বাংলা পক্ষর দীর্ঘ ৬ বছরের লড়াইয়ে ৩০০ নম্বরের বাংলা পেপার বাধ্যতামূলক হয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন দলে থাকা হিন্দি-উর্দু লবি ও বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে বশ্যতা স্বীকার করে বাংলার সরকার। আবারও WBCS এ হিন্দি-উর্দু ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। বাংলা পক্ষ সিভিলে সার্ভিসে হিন্দি- উর্দুর বিরুদ্ধে লড়ছে, বাংলা বাধ্যতামূলক চাই।দুর্ভাগ্যের বিষয় হল- বাংলায় বাঙালির ভোটে জেতে সরকার, কিন্তু বহিরাগত তোষণ করে। অন্য দিকে বিভিন্ন রাজ্য সরকারি দপ্তরে নিয়োগ না হওয়ায় বা নিয়োগ প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ায় বাংলার শিক্ষিত যুব সমাজ বিপদে পড়ছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগও উঠেছে। তাই নিম্নলিখিত দুটি দাবিতে বাংলা পক্ষ আজ বিক্ষোভ ও কর্মসূচী করল৷ ১. WBCS সহ সমস্ত রাজ্য সরকারি চাকরির পরীক্ষায় বাংলা ভাষার লিখিত পেপার বাধ্যতামূলক করতে হবে।২. সমস্ত শূন্য পদে দ্রুত ও স্বচ্ছ ভাবে নিয়োগ করতে হবে। পিএসসির নব নিযুক্ত চেয়ারম্যান মাননীয় দেবল রায় মহাশয়ের সাথে সাক্ষাৎ করে বাংলা পক্ষর তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলে ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি, শীর্ষ পরিষদ সদস্য অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা জেলার সম্পাদক সৌম্য বেরা। কৌশিক মাইতি বলেন, “বাংলায় বাঙালির ভোট পেতে হলে WBCS সহ সমস্ত চাকরিতে বাংলা ভাষার লিখিত পেপার বাধ্যতামূলক করতে হবে। সব রাজ্যে যা নিয়ম, বাংলায় অন্যথা হবে কেন? বাংলা কি ধর্মশালা?বাংলা নিজের মেয়েকে চেয়েছে কারণ, কারণ বাঙালি নিজের ভাষার অধিকার চায়। কারণ বাঙালি নিজের ছেলেমেয়ের চাকরি, কাজ, ব্যবসা চায়। ২০২৬ এর ভোট আসছে। বাঙালির ভোট পেতে হলে বাংলা বাধ্যতামূলক করতেই হবে। বাংলা পক্ষ লড়ছে৷” অরিন্দম চট্টোপাধ্যায় বলেন, “হিন্দি-উর্দু তোষণের ফলে বিপদে পড়ছে বাংলার ভূমিপুত্ররা। আমাদের ছেলেমেয়েরা অন্য রাজ্যে বাংলায় পরীক্ষা দিতে পারে না৷ ওরা এখানে এসে নিজের ভাষা হিন্দি-উর্দুতে পরীক্ষা দিয়ে চাকরি দখল করছে। ক্ষতি হচ্ছে বাংলার ছেলেমেয়েদের৷ এর বিরুদ্ধে বাংলা পক্ষর সর্বাত্মক আন্দোলন চলবে।”

Read More

SIR র নামে বৈধ বাঙালিকে গণহেনস্থা এবং ফর্ম ৬ দিয়ে বাংলার ভোটার লিস্টে বিহার-ইউপির ক্রিমিনাল ঢোকানোর অপচেষ্টার প্রতিবাদে নির্বাচন কমিশনের অফিসের সামনে বাংলা পক্ষর বিক্ষোভ ও CEO পশ্চিমবঙ্গ কে ডেপুটেশন প্রদান

২১-০১-২০২৬, কলকাতাঃ নির্বাচন কমিশনে বিক্ষোভের পর Addl. CEO অরিন্দম নিয়োগীর সাথে দীর্ঘক্ষণ মিটিং করে বাংলা পক্ষ। সেখানে ভয়ঙ্কর তথ্য দেন Addl CEO. মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের রায়ের ৪৮ ঘন্টা পরও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেস কুমারের অফিস থেকে সুপ্রীম কোর্টের রায় কার্যকর করতে কোনো নির্দেশ আসেনি। যা অত্যন্ত বিপদজনক। SIR নিয়ে এখন সরগরম বাংলার রাজনীতি। ভারতের নির্বাচন কমিশনের নিত‍্য নতুন নিয়মের ফলে বাঙালি আজ ব‍্যাপক ভাবে সমস‍্যায় পড়ছে। যৌক্তিক অসঙ্গতি বা logical discrepancy র নামে প্রায় এক কোটির বেশি বাঙালি ভোটারকে শুনানির নোটিশ পাঠানো হয়েছে। হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে বাঙালি আজ নিজেকে বৈধ ভোটার তথা নাগরিক প্রমাণ করতে লাইনে দাঁড়াতে বাধ‍্য হচ্ছে। গ্রাম বাংলার হতদরিদ্র পরিবার থেকে নোবেলজয়ী অমর্ত‍্য সেন, কিংবদন্তী কবি জয় গোস্বামী থেকে আরম্ভ করে বাঙালির মহানায়ক সুভাষচন্দ্র বসুর পরিবারদের সদস‍্যরাও বাদ পড়ছে না। বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে সাধারণ মানুষ পথে নেমে প্রতিবাদ করছে। ভারতে বাঙালির জাতীয় সংগঠন বাংলা পক্ষ এই গণ হেনস্থার প্রতিবাদে আজ মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO, West Bengal) অফিসের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে এবং আধিকারিককে ডেপুটেশন প্রদান করে। বাংলা পক্ষ থেকে মূলত ছয়টি দাবি তুলে ধরা হয়-১) যৌক্তিক অসঙ্গতি (logical discrepancy) -র নামে প্রতিদিন হিন্দু- মুসলিম নির্বিশেষে বাংলার সাধারণ বাঙালিকে সমস্ত কাজ ফেলে শুনানির লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। SIR এখন খেটে খাওয়া বাঙালির কাছে এক অভিশাপ! দ্রুত এই অব‍্যবস্থার সঠিক সমাধান চাই। ২) ফর্ম ৬ দিয়ে ভিন রাজ্যের বাসিন্দা এমন ভোটারদের বাংলার ভোটার তালিকায় যুক্ত করার প্রচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ ও তথ্য সামনে আসছে। এটা বিজেপি দল ও নির্বাচন কমিশনের যৌথ প্রচেষ্টা বলে মনে করছে বাংলা পক্ষ। এটা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। ভিন রাজ্যের কোনো ভোটারের নাম বাংলার ভোটার তালিকায় ঢোকানো যাবে না। ফর্ম ৬ এ আবেদন করতে হলে SDO অফিস থেকে ইস্যু করে ডোমিসাইল সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক করতে হবে। ৩) অন্যদিকে বাংলার প্রায় সব জেলা থেকে ফর্ম ৭ জমা করে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেবার চক্রান্তের অভিযোগ সামনে আসছে। ফর্ম ৭ কারা জমা করছে তাদের নাম প্রকাশ্যে আনতে হবে এবং অভিযোগ ভুল প্রমাণিত হলে সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে FIR করতে হবে। ৪) ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত খসড়া তালিকায় এমন লাখ লাখ ভোটারের নাম আছে যাদের দুই রাজ্যে ভোটার কার্ড আছে। এই সমস্ত অপরাধীদের নাম বাংলার ভোটার তালিকা থেকে অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এখনও পর্যন্ত সন্দেহজনক। ৫) বাংলা তথা ভারতের অহংকার নোবেল জয়ী, ভারতরত্ন অর্মত্য সেন, ভারতের স্বাধীনতা লাভের কাণ্ডারি বীর সুভাষচন্দ্র বসুর পরিবারের সদস্য, কবি জয় গোস্বামীর মতো মানুষদেরও শুনানির নোটিশ প্রদান করা হচ্ছে। এটা বাংলা ও বাঙালিকে পরিকল্পিত অপমান। এর জন্য নির্বাচন কমিশনকে ধিক্কার। ৬) AI ব্যবহার করে বানানগত নানা বিভ্রান্তি তৈরি করেছে নির্বাচন কমিশন। নামের বানান ভুলের ফলে লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি -এর নামে সাধারণ বাঙালিকে হেনস্থা বন্ধ করতে হবে। এই ভুলের দায় নির্বাচন কমিশনের। কিন্তু শাস্তি দেওয়া হচ্ছে বাঙালিকে। হিন্দিভাষী কর্মী দিয়ে বাঙালির নামের বানান ঠিক করা আসলে অপদার্থতার পরিচয়। ২০০২ এবং ২০২৫ বাংলা নাম ঠিক থাকলেও, ইংরেজি নামের বানানে গড়মিল, এর ফলে নোটিশ পাচ্ছে লাখ লাখ বাঙালি। দায় নির্বাচন কমিশনের। এটা দ্রুত বন্ধ করুন। এদিনের প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলা পক্ষর সাধারণ সম্পাদক গর্গ চট্টোপাধ‍্যায়, সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি, শীর্ষ পরিষদ সদস‍্য অরিন্দম চ‍্যাটার্জী, কলকাতা জেলার সম্পাদক সৌম্য বেরা, উত্তর চব্বিশ পরগনা শহরাঞ্চলের জেলা সম্পাদক পিন্টু রায়, উত্তর চব্বিশ পরগনা গ্রামীনের জেলা সম্পাদক দেবাশীষ মজুমদার, দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা সম্পাদক কুশনাভ মন্ডল, পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা সম্পাদক সুতনু পণ্ডিত প্রমুখ। CEO অফিসে আলোচনা ও ডেপুটেশনের পর সাধারণ সম্পাদক গর্গ চট্টোপাধ‍্যায় গর্জে ওঠেন, “আজ ভারতে বীর সুভাষ চন্দ্র বসুর পরিবারকে বৈধতা প্রমাণ করতে হচ্ছে। এর থেকে লজ্জার কিছু হতে পারে না।এমনকি সুপ্রীম কোর্টের নির্দেশের ৪৮ ঘন্টা পরেও জ্ঞানেশ কুমার কোনো পদক্ষেপ না করে সুপ্রীম কোর্টকে অমান্য করে লাখ লাখ বাঙালিকে হেনস্থা করে চলেছে। অন্যদিকে ফর্ম ৬ এর মাধ্যমে মাধ্যমে যারা বাংলার ভোটার লিস্টে নাম তুলছে তাদের হোম স্টেট প্রকাশ করতে দাবি জানিয়েছি কমিশনের কাছে। কোনো সদুত্তর তারা দিতে পারছে না৷ আমাদের দীর্ঘ মিটিং এ মনে হল CEO পশ্চিমবঙ্গ অফিসের কোনো কিছু করার ক্ষমতা নেই, জ্ঞানেশ কুমার যা বলবেন বাঙালির ক্ষতি করতে, এরা সেটাই করবে। বাঙালি অফিসারদের শিরদাঁড়া সোজা রাখতে অনুরোধ করছি।” সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি বলেন, “বিজেপি হাওয়া গরম করে দেড় কোটি রোহিঙ্গা তাড়ানোর গল্প দিয়ে SIR শুরু করলো। খসড়া তালিকায় কোনো রোহিঙ্গা খুঁজে না পেয়ে বিজেপির নির্দেশে অমিত শাহকে খুশি করতে এক কোটির বেশি বৈধ হিন্দু-মুসলিম বাঙালিকে হেনস্থা করা শুরু হয়েছে৷ এই কদিনে এত লাখ মানুষের শুনানি সম্ভব না, গণ বিক্ষোভও হচ্ছে৷ এই অজুহাতে বিজেপি SIR প্রক্রিয়া বন্ধ করতে চাইছে। আর একটি ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্র সামনে আসছে। লাখ লাখ বাঙালিকে হেনস্থার মাধ্যমে অরাজকতা সৃষ্টি করে এই SIR এর শুনানি প্রক্রিয়া ভোটের আগে নির্দিষ্ট সময়ে শেষ না হলে তারা রাষ্ট্রপতি শাসনে ভোট করার ষড়যন্ত্র করছে। বাঙালি বীর সুভাষের জাতি। এই ঘৃণ্য পরিকল্পনাও ভেস্তে দেবে।” অরিন্দম চট্টোপাধ্যায় তার বক্তব্যে প্রতিটা হিন্দু বাঙালিকে শিক্ষা নিতে বলেন৷ বিজেপি যেভাবে হিন্দু বাঙালিকে হেনস্থা করছে তার বিরুদ্ধে গণ প্রতিরোধের ডাক দেন তিনি।

Read More

আগামী ১১ ই জানুয়ারী, রবিবার বাংলা পক্ষর ডাকে ধর্মতলায় মহা সমাবেশের প্রাক কালে আজ কলকাতা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করল বাংলা পক্ষ।

কলকাতা, ০৮ জানুয়ারি: আজ প্রেস ক্লাবে বক্তব্য রাখেন বাংলা পক্ষর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক গর্গ চট্টোপাধ্যায়, সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি, শীর্ষ পরিষদ সদস্য অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা জেলার সম্পাদক সৌম্য বেরা এবং উত্তর চব্বিশ পরগনা গ্রামীনের সম্পাদক দেবাশীষ মজুমদার। আজ সাংবাদিক সম্মেলন থেকে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনককে কেন্দ্র করে বাংলার প্রতিটা জেলা ভিত্তিক দাবি সনদ প্রকাশ করে বাংলা পক্ষ। প্রতিটা জেলার ভূমিপুত্রদের চাকরি-কাজ-ব্যবসার দাবি, ভারতীয় সেনায় বাঙালি রেজিমেন্টের দাবি থেকে জলপাইগুড়িতে বাংলার দ্বিতীয় AIIMS এর দাবি আছে এই দাবি সনদে। কৃষক, শ্রমিক থেকে ব্যবসায়ী, চাকরিপ্রার্থী সকলের দাবি আছে এই দাবিপত্রে। বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং বাংলায় চাকরি ও কাজে ভূমিপুত্র সংরক্ষণের দাবি প্রাধান্য পেয়েছে এই দাবি সনদে। আছে বাংলা ভাষার অধিকারের নানা দাবিও। ১১ জানুয়ারী বাঙালির মহা সমাবেশে যোগদান করার জন্য বাংলার ভূমিপুত্রদের কাছে আহ্বান জানানো হয়। আবেদন করা হয় বাংলার সংবাদ মাধ্যমের কাছেও। ২০২৬ সালে বাংলার কোনো বিধানসভা কেন্দ্রে কোনো দল বহিরাগত প্রার্থী দিলে তাকে পরাজিত করতে সরাসরি লড়াইয়ে থাকবে বাংলা পক্ষ। সাংবাদিক সম্মেলন থেকে এই কথা স্পষ্ট ভাবে জানানো হয়। আগামী ১১ জানুয়ারী বাঙালির অধিকারের জন্য লড়াইয়ের শপথ নিয়ে কোচবিহার থেকে পূর্ব মেদিনীপুর প্রতিটা জেলা থেকে হাজার হাজার বাঙালি (কমপক্ষে ১০ হাজার বাঙালি) ধর্মতলায় ভিড় জমাবে। বাংলা পক্ষ ভোটে নেই। কিন্তু বাংলা পক্ষ দাবিগুলো এই নির্বাচনে লড়বে। বাঙালি তথা ভূমিপুত্রদের অধিকার প্রতিষ্ঠাই একমাত্র লক্ষ্য।

Read More

SIR এর খসড়া তালিকা প্রকাশ, ধরা পড়ল লাখ লাখ হিন্দি- উর্দু বলা রোহিঙ্গা, SIR এ বিপদে মতুয়া সহ উদ্বাস্তুরা। বাংলা পক্ষর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

কলকাতা, ১৮ই ডিসেম্বর ২০২৫: গত ১৬ ডিসেম্বর বাংলার SIR এর ড্রাফট লিস্ট প্রকাশিত হয়েছে। ইতিমধ্যে ৫৮ লাখ মানুষের নাম বাদ পড়েছে SIR এর খসড়া তালিকায়। ৫৮ লাখের মধ্যে ২৪ লাখ মানুষ মৃত, তাই বাদ পড়েছে। স্থানান্ততিত, খুঁজে পাওয়া যায়নি এবং ইতিমধ্যে অন্য জায়গায় ভোটার লিস্টে আছে- এই তিন ক্যাটেগোরিতে বাদ পড়েছে প্রায় ৩৪ লাখ মানুষ। যারা দেড় কোটি রোহিঙ্গা বা বাংলাদেশী মুসলমান খুঁজছিলেন, তারা হতাশ। মিডিয়ার সাংবাদিক সহ অনেক রাজনীতিবিদ বা সাধারণ মানুষ অনেকেই বুঝতে পারছেন না যে কলকাতা, শহরাঞ্চল ও শিল্পাঞ্চলগুলোয় লাখ লাখ মানুষের নাম বাদ পড়া মানুষগুলো কারা? এরা মূলত হিন্দি ও উর্দু ভাষী। এরা এতদিন দু রাজ্যের ভোটার ছিল। বাংলায় লাখ লাখ এমন ক্রিমিনাল আছে, যাদের দু রাজ্যে ভোট৷ বিহার/ ইউপি/ ঝাড়খন্ড/ রাজস্থান/ গুজরাট / উড়িষ্যা ও বাংলা দু জায়গাতেই ভোট দিত এরা। বাংলা পক্ষ দীর্ঘ দিন দু রাজ্যে ভোটার কার্ড থাকা ক্রিমিনালদের বিরুদ্ধে লড়ছে। SIR শুরুর সাথে সাথে ময়দানে নামে বাংলা পক্ষ। নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে CEO, West Bengal এর সাথে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করা হয় এবং স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়৷ বাংলার প্রতিটা জেলা শাসকের অফিসে আন্দোলন ও স্মারকলিপি জমা দেওয়া চলে৷ স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয় SDO দেরও। এছাড়া বাংলা জুড়ে মিটিং, মিছিল ও পথসভা সংগঠিত হয়৷ দু রাজ্যে ভোটার কার্ড থাকা ক্রিমিনালদের বাংলার SIR থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জোরালো হয়। ড্রাফট লিস্ট প্রকাশিত হওয়ার পর দেখা যাচ্ছে যে প্রায় ২০-২৫ লাখ ভোটার, যাদের দু রাজ্যে ভোটার কার্ড তারা বাদ পড়েছে। এদের মুখের ভাষা মূলত হিন্দি ও উর্দু। সেজন্যই চৌরঙ্গী ও জোড়াসাঁকোর মতো বিধানসভায় সবচেয়ে বেশি নাম বাদ পড়েছে৷ প্রচুর নাম বাদ পড়েছে কলকাতা বন্দরেও৷ একই চিত্র রাজ্যের সমস্ত শিল্পাঞ্চলে। শিলিগুড়ি, খড়গপুর ও আসানসোলে একই জিনিস দেখা গেছে। বাংলা পক্ষ ছাড়া কেউ এই দু রাজ্যে ভোটার কার্ড ইস্যুতে লড়াই করেনি। ওদের কয়েকলাখ মানুষ ভয় পেয়ে বাংলায় SIR ফর্ম জমা করেনি। কিন্তু কয়েকলাখ হিন্দি- উর্দু ভাষী এখনও দু রাজ্যে নাম তুলেছে। তারা বে- আইনি কাজ করেছে। এদের বাংলা পক্ষ হুঁশিয়ারি দিচ্ছে যাতে ওরা দ্রুত SIR লিস্ট থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেয়। আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি জানাচ্ছি যাতে দু রাজ্যে ভোটার কার্ড থাকা ১০০% ক্রিমিনালদের নাম বাংলার লিস্ট থেকে বাতিল করে। এছাড়াও খসড়া তালিকা প্রকাশের পর দেখা যাচ্ছে যে উদ্বাস্তু হিন্দু বাঙালি, মূলত মতুয়ারা বিপদে। কয়েক লাখ উদ্বাস্তু বাঙালির নাম বাদ গেছে ভোটার লিস্ট থেকে। ২০১৯ থেকে বিজেপি এই মানুষগুলোকে CAA র মাধ্যমে নাগরিকত্ব দেওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে ভোট নিয়েছিল। এখনও মতুয়া সহ উদ্বাস্তুরা নাগরিকত্ব পায়নি, কিন্তু ভোটার লিস্ট থেকে নাম কাটলো বিজেপি। দেশভাগের বলি হওয়া উদ্বাস্তু হিন্দু বাঙালির ভোটাধিকার কেড়ে নিল বিজেপি। উদ্বাস্তু হিন্দু বাঙালির নি:শর্ত ও অবিলম্ব নাগরিকত্ব এবং ভোটাধিকারের দাবিতে বাংলা পক্ষ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও বাংলার দার্জিলিং ও কালীম্পং এ এমন হাজার হাজার মানুষ আছে যারা নেপালের নাগরিক। ইন্দো- নেপাল চুক্তি অনুযায়ী কেউ নেপাল থেকে এসে বাংলা তথা ভারতে থাকতে পারে, ঘর-বাড়িও করতে পারে। কিন্তু ভোটার কার্ড করতে পারে না৷ যারা বাংলার ভূমিপুত্র নেপালী, আমরা তাদের পক্ষে। কিন্তু যারা নেপাল থেকে এসে অবৈধ ভাবে বাংলার ভোটার লিস্টে নাম তুলেছে তাদের নাম বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করেছিল। অনেক অবৈধ নেপালীর নাম বাদ গেছে। আরও অনেকে আছে। আবারও বলতে চাই যে আমরা বৈধ নেপালীদের ভাই মনে করি। দু রাজ্যে যাদের ভোট তাদের নাম সম্পূর্ণ ভাবে বাদ দেওয়ার দাবি এবং হিন্দু উদ্বাস্তু বাঙালির ভোটাধিকারের দাবিতে বাংলা পক্ষর আন্দোলন তীব্রতর হবে।

Read More

দমদমে ১৪ বছরের বাঙালি বোনের গণধর্ষক রাজেস পাসওয়ান, ভিকি পাসওয়ান, সাঞ্জু সাউয়ের ফাঁসির দাবিতে দমদমে বাংলা পক্ষর বিরাট মিছিল।

দম দম , ৯ নভেম্বর ২০২৫: দমদমে ১৪ বছরের বাঙালি বোনকে গণ ধর্ষণ করেছে বিহার থেকে আসা তিন ক্রিমিনাল সাঞ্জু সাউ, ভিকি পাসওয়ান, রাজেস পাসওয়ান। বাংলা পক্ষ শুরু থেকেই তিন গণ ধর্ষক বহিরাগত ক্রিমিনালের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে লড়ছে৷ এর আগে দমদম থানা ঘেরাও করেছিল বাংলা পক্ষ। আজ বাংলা পক্ষর উত্তর চব্বিশ পরগনা শহরাঞ্চল সাংগঠনিক জেলার উদ্যোগে দমদম এয়ারপোর্ট ১ নং গেট থেকে তিন গণ ধর্ষকের পাড়া ও নির্যাতিতা বাঙালি বোনের পাড়া কালীধান কলোনী হয়ে গোরাবাজারের মধ্য দিয়ে গিয়ে নাগেরবাজারে শেষ হয় মিছিল।সাধারণ সম্পাদক গর্গ চট্টোপাধ্যায় এই মিছিলের নেতৃত্ব দেন। মিছিলের উদ্যোক্তা জেলা সম্পাদক পিন্টু রায়।উপস্থিত ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি, শীর্ষ পরিষদ সদস্য মহ: সাহীন, কলকাতা জেলার সম্পাদক সৌম্য বেরা, উত্তর চব্বিশ পরগনা গ্রামীন সাংগঠনিক জেলার সম্পাদক দেবাশীষ মজুমদার। উপস্থিত ছিলেন জেলা কমিটি মেম্বার অর্পণ ঘোষ, সৌমেন পন্ডা, লীনা রায়, প্রীতি মিত্র, কাকলী মজুমদার, প্রলয় চন্দ্র সরকার। দাবি একটাই বাঙালি বোনের গণ ধর্ষণকারী সাঞ্জু সাউ, ভিকি পাসওয়ান, রাজেস পাসওয়ানের ফাঁসি চাই। মিছিলের প্রচুর মানুষ যোগ দেন।দমদম সহ পুরো বাংলায় বিহার- ইউপির ক্রিমিনাল বাড়ছে কেন? রাজ্য সরকারের কাছে জবাব চায় আজকের মিছিল। রাত দখল না হলেও, সব দল চুপ থাকলেও, মিডিয়া কেসটা চেপে দিলেও বাংলা পক্ষ এই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে৷ বাঙালি মা- বোনেদের নিরাপত্তা চাই৷ গর্গ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “বাংলা জুড়ে বিহার- ইউপির ক্রিমিনাল বাড়ছে। ১৪ বছরের বাঙালি বোনের গণধর্ষণ করেছে বিহার থেকে আসা তিন ক্রিমিনাল। এটা অন্য রাজ্যে সম্ভব? গুজরাটে এক গুজরাটি নাবালিকাকে ধর্ষণ করেছিল এক হিন্দিভাষী ক্রিমিনাল। ৭ দিনে ২৫ হাজার হিন্দিভাষীকে গুজরাট থেকে বিতাড়িত করা হয়েছিল। আমরা আইন ও সংবিধান মেনে ফাঁসি চাইছি।” কৌশিক মাইতি বলেন, “বিহার থেকে আসা ধর্ষক সাঞ্জায় রাই, ভিকি পাসওয়ানরা পাড়ায় পাড়ায় বাড়ছে কেন? বাংলাকে বিহার বানানো হচ্ছে। রাজ্য সরকার চুপ। বিভিন্ন দল ভোটের লোভে এই বহিরাগত ক্রিমনালদের তেল দেয়। এটা লজ্জাজনক।” জেলা সম্পাদক পিন্টু রায় বলেন, “দমদমে এভাবে ১৪ বছরের বাঙালি বোনকে গণধর্ষণ করা হল। আমরা এই তিন বহিরাগত ক্রিমিনালদের ফাঁসির দাবিতে লড়ছি। কোনো দল রাস্তায় না থাকলেও, কেউ রাত দখল না করলেও, দমদমের মা- বোনেদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করলে বাংলা পক্ষ লড়াই চালিয়ে যাবে৷ “

Read More

রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে SIR বিষয়ে বাংলা পক্ষর ডেপুটেশন

কলকাতা, ৪ নভেম্বর ২০২৫: পশ্চিমবঙ্গে SIR শুরু হয়েছে, শাসক বিরোধীদের নানান দাবি ও প্রচারে বাংলার রাজনীতি এখন উত্তাল। এই পরিস্থিতিতে রাজ‍্য নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে ডেপুটেশন দিলো ভারতে বাঙালির জাতীয় সংগঠন বাংলা পক্ষ।আজ বিকেলে সংগঠনের সাধারন সম্পাদক গর্গ চট্টোপাধ‍্যায়ের নেতৃত্বে সংগঠনের সদস‍্যরা কলকাতায় নির্বাচন কমিশনের দপ্তরের সামনে জমায়েত করেন। সাধারণ সম্পাদক গর্গ চট্টোপাধ্যায় ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শীর্ষ পরিষদ সদস্য তথা সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি, শীর্ষ পরিষদ সদস‍্য অরিন্দম চ‍্যাটার্জী, মহঃ সাহিন, কলকাতা জেলার সম্পাদক সৌম‍্য বেরা।সংগঠনের পক্ষ থেকে তিনটি নির্দিষ্ট দাবি লিখিত ভাবে সহকারী নির্বাচনী আধিকারিকের হাতে তুলে দেওয়া হয়। দাবিগুলি হল- ১) বাংলার ভোটার তালিকায় থাকা বহিরাগত ভুয়ো ভোটার, যাদের দুই রাজ্যে ভোটার কার্ড তাদের SIR প্রক্রিয়ায় বাংলার ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে এবং সেই অপরাধীদের নাম ও পশ্চিমবঙ্গে দেখানো ঠিকানা প্রকাশ্যে আনতে হবে । ২) ঘটি হিন্দু বাঙালি, ঘটি মুসলমান বাঙালি এবং বাংলাদেশ থেকে ধর্মীয় নির্যাতনের কারণে ভারতে আগত উদ্বাস্তু হিন্দু বাঙালির এক জনেরও নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া চলবে না । ৩) ইন্দো-নেপাল চুক্তির অপব্যবহার করে ভারতে অনুপ্রবেশ করে অবৈধ ভাবে বাংলার ভোটার লিস্টে তোলা প্রতিটি ব্যক্তির নাম ও তার সন্তান সন্ততিদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে(বিহারের SIR এর অনুরূপ)। বাংলা পক্ষর সাধারণ সম্পাদক গর্গ চট্টোপাধ‍্যায় বলেন ” আজ কেন্দ্রীয় সরকারের SIR চক্রান্তে আজ বাংলার মাটিতে জগৎ শেঠের সন্তানরা বাংলার ভূমিপুত্র আর বাবা লোকনাথের সন্তানরা, হরিচাঁদ ঠাকুর গুরুচাঁদ ঠাকুরের সন্তানরা বাংলায় বহিরাগত? বাংলা পক্ষ চায় বাংলার ভোটার তালিকা থেকে অবৈধ ও ভুয়ো নাম বাদ যাক। তাই ডুয়াল ভোটার কার্ড বিষয়ে কমিশনকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে, অন‍্য রাজ‍্যের কার্ড থাকলে বাংলার ভোটার কার্ড বাতিল করতে হবে। দুই রাজ্যে ভোটার কার্ড বানানো ক্রিমিনালদের বিরুদ্ধে বাংলা পক্ষ ফৌজদারি মামলার ব্যবস্থা করবে।ভারত-নেপাল চুক্তির অপব‍্যবহার করে যারা অন‍্যরাষ্ট্র থেকে এসে এখানকার ভোটার হয়ে গেছে, তাদের নাম বাদ দিতে হবে। সেই সঙ্গে দেশভাগের বলি কোন হিন্দু বাঙালির নাম বাদ দেওয়া যাবে না। এমন করলে বাংলা পক্ষ চুপ থাকবে না। আগুন জ্বলবে।” ডেপুটেশনের পর বাংলা পক্ষর শীর্ষ পরিষদ সদস্য তথা সাংগঠনিক সম্পাদক মাইতি বললেন “নির্বাচন কমিশনের তথ‍্য বলছে CAA র মাধ‍্যমে মাত্র ১০ জন নাগরিকত্ব পেয়েছে। তাহলে লক্ষ লক্ষ উদ্বাস্তু মতুয়াদের কি হবে? নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা স্পষ্ট জানিয়েছেন CAA তে আবেদন করলেই ভোটার লিস্টে নাম উঠবে না, এটা মিথ্যা। নাগরিকত্বের সার্টিফিকেট লাগবে। শান্তনু ঠাকুর মতুয়াদের সাথে প্রতারণা করছে, CAA আবেদন করে কোন লাভ নেই।” তিনি স্পষ্ট ভাষাতেই বিজেপির দ্বিচারিতার বিরুদ্ধে সরব হন এবং ধর্মীয় হি‌ংসার কারণে পশ্চিমবঙ্গে চলে আসা সকল উদ্বাস্তু হিন্দু বাঙালিদের ভোটাধিকার রক্ষার দাবি করেন।

Read More