কলকাতা, ১৯শে ফেব্রুয়ারিঃ দীর্ঘ আন্দোলনের পর গত বছর কলকাতা পুরসভা নিয়ম করে যে কলকাতা পুরসভা এলাকায় সমস্ত সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড ও বিজ্ঞাপনে বাংলা ভাষার বাধ্যতামূলক করে। কিন্তু গত একবছরে এই আইন কোনোভাবে কার্যকর করেনি পুরসভা। এর প্রতিবাদে কলকাতা পুরসভার সামনে বিক্ষোভ ও ডেপুটেশন কর্মসূচী করল বাংলা পক্ষ। সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতির নেতৃত্বে এই আন্দোলন হয়। বাংলা ভাষা ইস্যুতে মেয়রকে কাঠগড়ায় তোলে বাংলা পক্ষ। স্পষ্ট বলা হয়, বাঙালির ভোট পেতে গেলে বাংলা ভাষা ও বাঙালি জাতির অধিকার সুনিশ্চিত করতে হবে।
বাংলা পক্ষর দাবিগুলো হল-
১. সমস্ত সাইনবোর্ড, দোকান বা অফিসের নাম, বিজ্ঞাপনে সবচেয়ে বড় করে বাংলা ভাষা লেখা বাধ্যতামূলক করতেই হবে৷ এমম কাগুজে আইন চাই না। কার্যকর করতেই হবে।
২. কলকাতার সমস্ত হকারি স্পটে শুধুমাত্র বাংলার ভূমিপুত্ররা ব্যবসা করবে৷ বাইরের রাজ্যের লোককে হকার কার্ড দেওয়া চলবে না।
৩. কলকাতায় কমপক্ষে ১৫ বছর না থাকলে, পুলিস ভেরিফিকেশন না করে বহিরাগতদের মুড়ি-মুড়কির মতো ডোমিসাইল দেওয়া যাবে না।
বাংলা পক্ষর চার সদস্যের প্রতিনিধি দল পুরসভার সচিবের সাথে দীর্ঘ মিটিং করেন। চার সদস্যের প্রতিনিধি দলে ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি, শীর্ষ পরিষদ সদস্য ডা: আব্দুল লতিফ, উত্তর চব্বিশ পরগনা গ্রামীনের সম্পাদক দেবাশীষ মজুমদার, হুগলীর সম্পাদক কৌশিক চট্টোপাধ্যায়। আলোচনা ফলপ্রসু হয়েছে।
সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি বলেন, “বাংলা ভাষায় কথা বললে বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাঙালিকে আক্রমণ করা হচ্ছে। বাংলা ভাষা মানে বাংলাদেশী ভাষা বলছে বিজেপির দিল্লি পুলিসও। এই সময় বাংলার সমস্ত ক্ষেত্রে বাংলা ভাষা ও বাঙালির অধিকার সুরক্ষিত করা সময়ের দাবি৷ কলকাতা পুরসভা ১ বছর আগে নিয়ম করলো যে সমস্ত সাইনবোর্ড ও বিজ্ঞাপনে বাংলা ভাষা বাধ্যতামূলক ভাবে রাখতে হবে। কিন্তু বহিরাগত মেয়র ফিরহাদ হাকিম নিশ্চয়ই বাংলা ভাষার পক্ষে নয়। তাই তিনি নিজের পুরসভারই এই আইন কার্যকর করতে উদ্যোগ নেননি৷ কেন? আমরা জানতে চাই। আমরা সাইনবোর্ডে বাংলা ভাষা চাই।”
এছাড়া কর্মসূচীতে উপস্থিত ছিলেন শীর্ষ পরিষদ সদস্য অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা জেলার সম্পাদক সৌম্য বেরা, অভিজিৎ দে প্রমুখ।
শীর্ষ পরিষদ সদস্য অরিন্দম চট্টোয়াপাধ্যায় বলেন, “কলকাতার ফুটপাতে ভিন রাজ্যের বহিরাগত হকারে ভরে গেছে৷ তারা অনেক ক্রাইমও করে। বাঙালি অন্য রাজ্যে মার খেয়ে বাড়ি ফিরছে। এখানে বাইরের লোক কাজ করছে। তাহলে বাঙালি যাবে কোথায়? ফুটপাতে বাঙালি ব্যবসা করবে। আমরা বাঙালি হকার চাই”

