বাংলার সমস্ত স্কুলে বাংলা বাধ‍্যতামূলকের দাবিতে এবং স্কুল পাঠ্যে তিনটি বাংলা ভাষা আন্দলোনের ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে শিক্ষা দপ্তরে বাংলা পক্ষর ডেপুটেশন

Share the News

কলকাতা, ১৮ই ফেব্রুয়ারি : পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে সব বোর্ডের সব মাধ‍্যমের স্কুলে একটি আবশ‍্যিক বিষয় হিসেবে বাংলাকে বাধ‍্যতামূলক করার দাবিতে শিক্ষা দপ্তরে ডেপুটেশন দিল বাংলা পক্ষ। ভারতের সব রাজ‍্যেই সেই রাজ‍্যের মূল ভাষা স্কুলস্তরে বাধ‍্যতামূলক ভাবে পড়তে হয়। স্থায়ীভাবে বসবাস করতে গেলে সেই রাজ‍্যের ভাষা, সংস্কৃতি জানাটা জরুরী। অথচ এই বাংলায় আমরা দেখছি, কয়েক প্রজন্ম বসবাস করেও অনেকেই বাংলা ভাষাটাই জানে না। এরা নিজেরা বাংলা শেখে না, অন‍্যদিকে বাঙালিকে বাংলায় কথা বলার জন‍্য “বাংলাদেশী” বলে হেনস্থা করে। ২০১৭ সালে মুখ‍্যমন্ত্রী দার্জিলিং, কালিম্পং এর পার্বত‍্য অঞ্চল বাদে বাকি বাংলার সব জেলায় সব স্কুলে দশম শ্রেণী পর্যন্ত বাংলা ভাষা শিক্ষা আবশ‍্যিক করার কথা বলেছিলেন। তারপর কোন অজ্ঞাত কারণে সেই ঘোষণার বাস্তবায়ন হয়নি। বাংলা পক্ষ সংগঠন দ্রুত বাংলা বাধ‍্যতামূলকের দাবিতেই আজ ডেপুটেশন দেয়। সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি, প্রীতি মিত্র, অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সুদীপ্ত দাস- চার সদস্যের এক প্রতিনিধি দল স্কুল শিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তার হাতে ডেপুটেশন তুলে দেন।
কৌশিক মাইতি বলেন ” ২১ শে ফেব্রুয়ারির প্রাক্কালে ‘ভাষা অধিকার সপ্তাহ’ পালন করছে বাংলা পক্ষ। গতকাল PSC ভবনের পর আজ বিকাশ ভবনে ডেপুটেশন দিলাম। আমরা চাই ভারতের সব রাজ‍্যের মতই এই বাংলাতেও রাজ‍্যের মূলভাষা অর্থাৎ বাংলা বাধ‍্যতামূলক ভাবে শিখতেই হবে প্রতিটি স্কুলে। রাজ‍্য বোর্ড, ICSE, CBSE যে বোর্ডই হোক, সরকারি হোক বা বেসরকারি হোক, কিংবা যেকোনো মাধ্যমই হোক- বাংলা পড়ানো বাধ‍্যতামূলক করতেই হবে।” তিনি মুখ‍্যমন্ত্রীর বক্তব‍্য উদ্ধৃত করে বলেন যে, “বাংলায় থাকতে গেলে বাংলা জানতে হবে”-এটা শুধু মুখের কথা নয় বাস্তবেও যাতে বাংলায় স্থায়ীভাবে থাকা বহিরাগতরা বাংলা শিখতে বাধ‍্য হয় সেটা দেখতে হবে।
সেই সঙ্গে তিনি আরও বলেন “১৯৫২ র ঢাকা, ১৯৬১ র আসামের বরাক বা ১৯৫৬ র মানভূম ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস পাঠ‍্যসূচীতে অন্তর্ভূক্ত করতে হবে। সংবিধানে বাংলা ভাষার মর্যাদা ও অধিকার সম্পর্কে ছাত্রছাত্রীদের অবগত করতে হবে।”
প্রীতি মিত্র বলেন, “আজ শুধু ভারতের বিভিন্ন বিজেপি শাসিত রাজ‍্যে বাঙালিকে বাংলা ভাষায় কথা বলার জন‍্য বাংলাদেশী বলা হচ্ছে এমন নয়, এই বাংলাতেও বাঙালিকে বাংলাদেশী বলে হেনস্থা করা হচ্ছে। বাংলা ভাষা শিক্ষা ও সরকারিস্তরে তার ব‍্যবহারে বাংলার সরকারের উদাসীনতা এরজন‍্য অনেকটাই দায়ী। স্কুলস্তর থেকে বাংলা ভাষা শিক্ষা, চাকরি পরীক্ষায় বাংলা বাধ‍্যতামূলক করা এইজন‍্যই জরুরী।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *